৫৩ কোটির গণ্ডি পার! মোদী-যোগীর হাত ধরে রেকর্ড ভাঙা পর্যটক কাশীতে, বদলে গেল অর্থনীতির ছবি

গঙ্গার অর্ধচন্দ্রাকৃতির ঘাট, প্রতি সন্ধ্যার গঙ্গা আরতি, মন্দিরের পবিত্র ঘণ্টা আর সরু গলিগুলির আদিম ও স্বতন্ত্র পরিচয়—কাশী মানেই এক আলাদা অনুভূতি। যুগ যুগ ধরে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে বিশ্বাস, ভক্তি ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে এই বারাণসী। আর বিগত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ডবল ইঞ্জিন সরকারের সদিচ্ছায় সেই কাশীর চিত্রটাই এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। প্রাচীন ঐতিহ্যকে অটুট রেখেই সেখানে যুক্ত হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, যার জেরে বিশ্বমঞ্চে পর্যটকদের কাছে এখন অন্যতম নিরাপদ ও আকর্ষক গন্তব্যে পরিণত হয়েছে কাশী। আর তারই হাত ধরে বারাণসীতে তৈরি হয়েছে এক সর্বকালীন রেকর্ড!
নজিরবিহীন পর্যটক সমাগম: উত্তরপ্রদেশ পর্যটন দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে মোট ৫২৭ মিলিয়নেরও বেশি (প্রায় ৫৩ কোটি) দেশি ও বিদেশি পর্যটক কাশী ভ্রমণ করেছেন। এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ৫২ কোটি ৪০ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮০৩ জন ভারতীয় এবং ৩০ লক্ষ ৯৫ হাজার ১১ জন বিদেশি পর্যটক। বিশেষ করে ২০১৬ সালের জুলাই মাস নাগাদ ২০১৪ সালের তুলনায় প্রায় ৪ কোটি ৭০ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত পর্যটক বারাণসীতে এসেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিসংখ্যান কেবল বেড়েই চলেছে, যা কাশীর পরিবর্তিত রূপকে পরিষ্কার ফুটিয়ে তোলে।
অর্থনীতিতে জোয়ার ও নতুন কর্মসংস্থান: পর্যটকদের এই লাগাতার আগমন কাশীর স্থানীয় অর্থনীতি এবং পর্যটন শিল্পের চেহারাটাই বদলে দিয়েছে। হোটেল, গেস্ট হাউস, রেস্তোরাঁ, নৌকা পরিষেবা, ফুল-প্রাসাদের দোকান থেকে শুরু করে ট্যাক্সি, অটো, ট্যুর ও ট্রাভেলস এবং স্থানীয় হস্তশিল্পের চাহিদা এখন তুঙ্গে। পর্যটনের এই রমরমা বাজারের হাত ধরে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার, মাঝি, গাইড, কারিগর থেকে শুরু করে অজস্র মানুষের নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। ফলে কাশী এখন কেবল ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পর্যটনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।
বদলে যাওয়ার নেপথ্যে কোন পরিকল্পনা? ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার এবং ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকার আসার পরই বারাণসীর পরিকাঠামো উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আসে। সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগের আকাশছোঁয়া উন্নতির পাশাপাশি ঘাটের সৌন্দর্যবর্ধন, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সারনাথের আধুনিকীকরণ এবং বিশ্বনাথ ধাম চত্বরের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা দিয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে জোর দেওয়া হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায়।
রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী জয়বীর সিং এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল কাশীর শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ১০০ শতাংশ সুরক্ষিত রাখা এবং একই সঙ্গে পর্যটকদের হাতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তুলে দেওয়া। যার ফলে সারা বিশ্বের মানুষ আজ শুধু বেড়াতেই নয়, বরং কাশীর সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে গভীরভাবে অনুভব করতে বারবার এখানে ফিরে আসছেন।”
এক নজরে ২০১৪ থেকে ২০২৬ (জুলাই) পর্যন্ত কাশীতে পর্যটকদের আগমনের খতিয়ান: