“নির্বাচনের পরেই দলবদল! ১১১ জন সাংসদ-বিধায়কের দলবদল নিয়ে এডিআর-এর চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে কোন তথ্য এল সামনে?”

দেশজুড়ে জনপ্রতিনিধিদের দলবদলের প্রবণতা নিয়ে ফের একবার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মസ്’ (ADR) এবং ‘ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ’। সম্প্রতি প্রকাশিত এক নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, নির্বাচিত হওয়ার পর অন্তত ১১১ জন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়ক তাঁদের রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেছেন। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন এবং বিভিন্ন উপ-নির্বাচনের তথ্যকে ভিত্তি করেই এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
পরিসংখ্যানের খতিয়ান ও দলবদলের চিত্র
এডিআর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলবদলকারী এই ১১১ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ২৬ জন লোকসভার সাংসদ, ৭ জন রাজ্যসভার সাংসদ এবং ৭৮ জন বিধায়ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে এই দলবদলের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে নাগাল্যান্ডে। এরপরের স্থানগুলিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (২০ জন), তেলঙ্গনা (৯ জন) এবং গোয়া ও পাঞ্জাব (উভয় রাজ্যে ৮ জন করে)।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, দলবদলের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৩২ জন (মোট সংখ্যার ২৯ শতাংশ) জনপ্রতিনিধি পেয়েছিল ‘নাগা পিপলস ফ্রন্ট’ (NPF)। তবে এটি কোনো ব্যক্তিগত দলত্যাগ ছিল না, বরং ২০২৫ সালে একটি দল-সংযুক্তি বা মার্জারের ফলে এমনটা ঘটেছিল। অন্যদিকে, ২৯ জন জনপ্রতিনিধি বা মোট সংখ্যার ২৬ শতাংশকে নিজেদের দলে টেনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।
বিজেপিতে যোগদানের বিশদ বিবরণ
এডিআর-এর তালিকা অনুযায়ী, বিজেপিতে যোগ দেওয়া ২৯ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ৭ জন ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ এবং ২২ জন ছিলেন বিধায়ক। এই সাতজন রাজ্যসভা সদস্যই ইতিপূর্বে আম আদমি পার্টি (AAP)-এর টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, বিধায়কদের মধ্যে গোয়ার আটজন, গুজরাটের চারজন এবং হিমাচল প্রদেশের দুজন কংগ্রেস বিধায়ক রয়েছেন। এছাড়াও মণিপুরের পাঁচজন জেডি(ইউ) বিধায়ক এবং উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও কর্ণাটকের একাধিক প্রভাবশালী বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। গুজরাটের চারজন কংগ্রেস বিধায়ক পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর উপনির্বাচনেও জয়ী হন।
অন্যান্য দলের রাজনৈতিক সমীকরণ
প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইনপ্রণেতাদের দলবদলের ক্ষেত্রে একমাত্র গন্তব্য বিজেপি ছিল না। এনপিএফ এবং বিজেপির পাশাপাশি ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে ২০ জন সাংসদ যোগ দিয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর পর দলটির ২০ জন লোকসভা সাংসদ বিদ্রোহ করে এনসিপিআই-এ যোগ দেন এবং লোকসভায় এনডিএ-কে সমর্থন জানান। এছাড়া এনডিপিপি-র ২৫ জন, তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন এবং কংগ্রেসের ১৯ জন আইনপ্রণেতাও এই দলবদলের তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত রয়েছেন।
আইন সংশোধনের জোরালো দাবি
এই বিপুল পরিমাণ দলবদলের পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে আইনপ্রণেতাদের দলবদল বিরোধী আইনে আরও কঠোর সংস্কার আনার দাবি জানিয়েছে এডিআর। সংগঠনের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে যে, সাংসদ বা বিধায়কের দলবদলের পর অযোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষমতা শুধুমাত্র স্পিকারের হাতে না রেখে একটি নিরপেক্ষ ব্যবস্থার আওতায় আনা উচিত। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি এবং দলবদলকারী জনপ্রতিনিধিদের পুনর্নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সরকারি পদে থাকার সুযোগ না দেওয়ার মতো কড়া নিয়ম চালুর সুপারিশও করা হয়েছে।