“বাবার পরিচয়ে নয়, নিজের দক্ষতায় তৈরি!” বিগ বসের ঘরে মেয়েকে নিয়ে তীব্র আক্রমণ হতেই গর্জে উঠলেন তাপস পাল-পত্নী?

বিগ বসের ঘরের অন্দরে দিন যত এগোচ্ছে, প্রতিযোগীদের মধ্যে স্নায়ুর লড়াই এবং পারস্পরিক সংঘাত ততই চরম মাত্রা নিচ্ছে। রিয়ালিটি শোয়ের এই মঞ্চে টিকে থাকার লড়াইয়ে কৌশল তৈরি, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা বা নানা পরিকল্পনা করা খেলারই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু অনেক সময়ই সেই উত্তপ্ত লড়াইয়ের রেশ ঘরের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরেও তীব্র বিতর্কের ঝড় তুলছে। সৃজলা গুহকে ঘিরে তৈরি হওয়া আগের বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার সহ-প্রতিযোগী সোহিনীকে নিয়ে নন্দিনী দত্তের করা এক মন্তব্য কেন্দ্র করে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর এই গোটা ঘটনায় নিজের মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন খোদ সোহিনীর মা নন্দিনী মুখোপাধ্যায় পাল।
সাম্প্রতিক একটি পর্বে বিগ বসের ঘরে একটি টাস্ক চলাকালীন সোহিনী ও নন্দিনী দত্তের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হয় তুমুল বচসা। সেই বাকবিতণ্ডা একসময় সমস্ত শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছয়। সোহিনীকে লক্ষ্য করে নন্দিনী দাবি করেন যে তিনি নাকি জন্মগতভাবেই সুবিধাভোগী এবং জীবনে নিজের যোগ্যতায় বিশেষ কিছু করে উঠতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবেই সেই আপত্তিকর মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান সোহিনীও। কিন্তু বিতর্ক সেখানে থেমে থাকেনি। ঘরের বাইরে মেয়ের ওপর হওয়া এই ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিতে এবার আসরে নেমেছেন সোহিনীর মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও খোলা চিঠি পোস্ট করে নন্দিনী দত্তকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি।
ওই চিঠিতে সোহিনীর দীর্ঘ কেরিয়ার এবং তাঁর নিজস্ব লড়াইয়ের কথা অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন নন্দিনী মুখোপাধ্যায় পাল। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, শুধুমাত্র প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের কন্যা হিসেবেই যে সোহিনীকে সবসময় বিচার করা উচিত, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। খুব ছোট বয়স থেকেই অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সোহিনী। এমনকি মাত্র দশম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই পরিচালক অঞ্জন দত্তের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিশিষ্ট পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সিনেমাতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন সোহিনী। বাংলা চলচ্চিত্র ছাড়াও একাধিক হিন্দি প্রজেক্টেও তিনি সমানভাবে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মা।
মেয়ের ব্যক্তিগত জীবনের বেশ কিছু অজানা আবেগঘন দিকও চিঠিতে তুলে ধরেছেন নন্দিনী। প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের মৃত্যুর সময় সোহিনী সেসময় কাজের সূত্রে মুম্বইয়ে ছিলেন। কিন্তু মাকে এক একা লড়াইয়ের মুখে না ফেলে, নিজের কেরিয়ারের তোয়াক্কা না করে কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি সমস্ত কাজ ছেড়ে সোজা কলকাতায় মায়ের পাশে ফিরে এসেছিলেন—সেই কথাও সগর্বে উল্লেখ করেছেন নন্দিনী। তাঁর মতে, কোনো পরিচিত বা তারকার পরিবারে জন্ম নেওয়া হয়তো জীবনে সামান্য কিছু বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগটুকু ধরে রেখে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে নিজস্ব জায়গা তৈরি করা সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। সোহিনী নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং সততার মাধ্যমেই আজ ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন বলে দাবি মায়ের।
পাশাপাশি মেয়ের ব্যক্তিগত চরিত্র এবং তার ভালোবাসার দিকটিও ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। বিশেষ করে রাস্তার ও বাড়ির বিভিন্ন পোষ্যদের প্রতি সোহিনীর যে সীমাহীন দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা রয়েছে, সেই কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন যে এই মানবিক গুণগুলিই তাঁর মেয়েকে নিয়ে তাঁকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে তোলে। তাঁর মতে, কোনো মানুষের পেশাগত সাফল্যের খতিয়ান দিয়ে তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্ব বা চরিত্রকে কখনওই সঠিকভাবে বিচার করা যায় না।
চিঠির শেষভাগে এসে বিগ বসের ঘরের অন্দরে নন্দিনী দত্তের সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিতর্কিত আচরণ নিয়েও কড়া প্রশ্ন তুলেছেন সোহিনীর মা। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, একজন সহ-প্রতিযোগীকে শারীরিক কসরতের সময় ঘোড়া থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে, কারও খাবারে তীব্র অ্যালার্জি রয়েছে তা ভালোমতো জেনেই সেই নির্দিষ্ট খাবারই তাঁকে খাওয়ার জন্য দেওয়ার মতো মানসিকতা কোনোভাবেই একজন সহনশীল মানুষের কাছ থেকে কাম্য হতে পারে না। একইসঙ্গে তাঁর জোরালো দাবি, কোনো বন্ধু যদি বিশ্বাস করে নিজের ব্যক্তিগত দুর্বলতার জায়গা বা গোপন কথা অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নেয়, তবে পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে সেই সংবেদনশীল তথ্যকে সেই ব্যক্তিরই বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত।
নন্দিনী মুখোপাধ্যায় পাল তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রিয়ালিটি শোয়ের এই প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় কিংবা সাময়িক জনপ্রিয়তা—সবই সময়ের সঙ্গে খুব দ্রুত বদলাতে পারে। কিন্তু একজন মানুষ ব্যক্তিগত পরিসরে বা কঠিন পরিস্থিতিতে অন্যদের সঙ্গে ঠিক কী ধরনের আচরণ করছেন, সেটাই তাঁর আসল চরিত্রের সবচেয়ে বড় পরিচয়। নিজের মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অবমূল্যায়নমূলক মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে মা হিসেবে ঠিক এই দিকটাই জনসমক্ষে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।