“বঙ্গজয়ের পরেই বড় বার্তা!” রাজ্যে পা রেখেই একের পর এক গোপন বৈঠকে কোন কড়া ছক কষলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এই প্রথমবার রাজ্য সফরে এলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। রবিবার সকালে নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে পা রেখেই একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বিমানবন্দরে সর্বভারতীয় সভাপতিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে সদ্য এক বড়সড় রদবদল হওয়ার পর নিতিন নবীনের এই সফরকে রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পদাধিকারীদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক
এদিনের সূচির শুরুতেই নিউটাউনে নবনির্বাচিত মোর্চা সভাপতি, নতুন মুখপাত্র, রাজ্য বিজেপির সমস্ত পদাধিকারী এবং রাজ্য কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে বসেন নিতিন নবীন। রাজ্যের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের দলীয় নীতি বা ‘লাইন’ স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেন তিনি। এরপর বঙ্গ বিজেপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিধায়কদের সঙ্গেও বিশেষ বৈঠক করেন। দলের অন্দরে জনপ্রতিনিধিদের কাজের ধরন এবং তাঁদের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই বিষয়টিও আজকের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে খবর।
মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক ও কড়া নির্দেশিকা
দুপুরের পর থেকেই রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়ে। বিকেল চারটে নাগাদ নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারেই রাজ্যের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। রাজ্যে সরকার গঠনের পর মন্ত্রীদের কার্যপদ্ধতি, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং দলের সঙ্গে সঠিক সমন্বয় বজায় রাখা নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়। জানা গিয়েছে, মন্ত্রীদের কাজের গতি বাড়াতে এবং জনমুখী বার্তা দিতে একাধিক কঠোর নির্দেশিকাও দিতে পারেন তিনি।
সন্ধ্যায় কোর কমিটির বৈঠক ও আগামী কর্মসূচি
রবিবার দিনের শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি নির্ধারিত রয়েছে রাজারহাটের একটি পাঁচতারা হোটেলে, যেখানে দলের কোর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নিতিন নবীন। নতুন করে রাজ্যে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক ভিত আরও বেশি শক্ত করার চূড়ান্ত রণকৌশল এই বৈঠকেই ঠিক হতে পারে। প্রতিটি বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতি রয়েছে। দলীয় রাজনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিদের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, সোমবারও তাঁর একাধিক ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী দিনে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারেও সশরীরে অংশ নিতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।