“আমাকে যে কোনও দিন মেরে ফেলবে!” খোদ বিধানসভা এলাকায় কুণাল ঘোষকে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের চাঞ্চল্যকর উত্তেজনা। উত্তরপাড়ার পর এবার খোদ নিজের বিধানসভা এলাকা বেলেঘাটায় আক্রান্ত হওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালানো এবং প্রাণনাশের চেষ্টা করার অভিযোগ ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার পর তিনি সোজা নারকেলডাঙা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

কী ঘটেছিল বেলেঘাটায়?
জানা গিয়েছে, রবিবার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি চা চক্রের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। অভিযোগ উঠেছে, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল। প্রায় ১০ থেকে ২০টি বাইক তাঁর গাড়ির পিছন পিছন ধাওয়া করে। এরপর গাড়িটি ফুলবাগানে পৌঁছতেই আচমকা সেটিকে ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয়।

অভিযোগ, লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে তাঁর গাড়ির সামনের ও পিছনের কাচ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর দিকে আগ্নেয়াস্ত্র বা রিভলভারও তাক করা হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন কুণাল ঘোষ। প্রাণ বাঁচাতে কোনোমতে তিনি নিকটবর্তী থানায় আশ্রয় নেন।

“আমাকে যে কোনো দিন মেরে ফেলবে!” — কুণাল ঘোষ
থানায় দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ গলায় কুণাল ঘোষ বলেন, “নন-পলিটিক্যাল অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম, বাড়ি থেকে ফলো করা হয়েছে। আমাকে যে কোনো দিন মেরে ফেলবে। ডেডবডির ছবি তুলবেন, গুলিবিদ্ধ দেহ পাওয়ার কথা। বাঁচতে থানায় ঢুকেছি। হাতুড়ি দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙছিল, রিভলভার তাক করছিল।”

তাঁর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে বিরোধী দল বিজেপি এবং তাদের সঙ্গে যোগ রয়েছে পুলিশের একাংশের। তিনি দাবি করেন, কোন ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হলে কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তারক্ষীকে নিজের সার্ভিস রিভলভার বের করতে হয়, তা একবার ভেবে দেখা উচিত। এই নিয়ে তাঁকে মোট চারবার হামলার মুখে পড়তে হলো বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

উত্তরপাড়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের হামলা
উল্লেখ্য, গত শনিবারই শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ার সখেরবাজারের কাছে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন কুণাল ঘোষ। সেদিন তাঁর গাড়িতে লোহার রড ও পাথর দিয়ে হামলা চালানোর পাশাপাশি ডিমও ছোড়া হয়েছিল। নেত্রীর নির্দেশেই সেদিন বাধ্য হয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন তিনি। বাড়ি বা কালীঘাটে না ফিরে তিনি সোজা চলে গিয়েছিলেন ভবানী ভবনে। তবে সেখানেও তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মমতার সেই সভার দিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পরদিনই খোদ নিজের এলাকায় কুণাল ঘোষের ওপর এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় গোটা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *