‘সিরিয়াল টেররিজম’, জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে পাকিস্তানকে চরম হুঁশিয়ারি ভারতের

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপসহীন অবস্থানের কথা ফের একবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জোরালোভাবে তুলে ধরল ভারত। শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার একাশিতম (৮১তম) অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে পাকিস্তান ও মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। যারা সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয় বা এর পরিকাঠামোকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে, তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে তা পাকাপাকিভাবে বন্ধ করার উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি।

বক্তব্য রাখার সময় সরাসরি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করলেও, জয়শঙ্করের নিশানায় যে ইসলামাবাদই ছিল, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই আন্তর্জাতিক মহলের। বিদেশমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদ চর্চাকারী’ (সিরিয়াল টেররিজম প্র্যাকটিশনার) কেউ যদি রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় এসে ভুল তথ্য বা তথ্য বিকৃত করার চেষ্টা করেন, তবে তা কখনওই মেনে নেওয়া হবে না। সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে তুলে ধরা বা তার পরিণতি থেকে দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

ভারত যে তার অবস্থান থেকে একচুলও নড়ছে না, তা এ দিন স্পষ্ট করে দিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদী হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করার সম্পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে এবং প্রয়োজনে সেই অধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হবে। দেশের সুরক্ষায় যে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না নয়াদিল্লি, বিশ্বমঞ্চ থেকে এই বার্তাটিই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দিয়ে দিলেন বিদেশমন্ত্রী।

এ দিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনেও সন্ত্রাসবাদকে মূল ইস্যু হিসেবে সামনে আনেন জয়শঙ্কর। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, এক দিকে বন্ধুত্বের ভান করা আর অন্য দিকে হাত লুকিয়ে সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার করা—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থান একসঙ্গে চলতে পারে না। যে সমস্ত দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসবাদকে কূটনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের নিজেদের নীতি ও পথ বদলাতেই হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে ভারতের এই অনমনীয় ও স্পষ্ট অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *