“ভোটার তালিকা নিয়ে বিরাট স্বস্তি!” বাড়ি বসেই নাম তোলার সুযোগ, এসআইআর নিয়ে বড় ঘোষণা কমিশনের

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে জল্পনার মাঝেই এক বিরাট ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও নমনীয় নিয়ম বদলের সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন সদন। কমিশনের এই নতুন পদক্ষেপে লক্ষ লক্ষ ভোটার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তিন কমিশনার একসঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে জানানো হয় যে দেশের ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাংলায় নাম বাদ পড়াদের জন্য বিশেষ সুযোগ
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছিল। এর মধ্যে আবার ৩৭ লক্ষের বেশি নাম ট্রাইব্যুনালে ঝুলে রয়েছে এবং তাদের আবেদনের নিষ্পত্তি এখনও বাকি। এই বিশাল সংখ্যক নাগরিকের কথা মাথায় রেখেই নতুন করে নাম তোলার সুযোগ করে দিল কমিশন। যাদের নাম ট্রাইব্যুনালে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, বিভিন্ন কারণে যারা স্থানান্তরিত হয়েছেন কিংবা যারা কোনোভাবে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি, তারা প্রত্যেকেই এখন পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ফর্ম-৬ পূরণ করে সরাসরি ইআরও (ERO)-র কাছে নতুন করে নাম তোলার আবেদন করা যাবে।
শুনানির নিয়মে ঐতিহাসিক বদল
কমিশনের সবথেকে বড় এবং জনমুখী সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে শুনানির প্রক্রিয়াকে ঘিরে। এতদিন এসআইআরের নোটিস পেলে ভোটারদের সশরীরে বুথ বা নির্দিষ্ট দপ্তরে হাজিরা দিতে হতো। কিন্তু এবার থেকে আর কষ্ট করে ইআরও বা এআরও (AERO)-র দপ্তরে যেতে হবে না। কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নোটিস পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়িতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবেন বিএলও (BLO)-রা এবং তারাই প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি সংগ্রহ করবেন। বিশেষ কোনো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হলে তবেই ইআরও-র তরফ থেকে অনলাইনে শুনানির ব্যবস্থা করা হতে পারে।
সবমিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, কমিশনের এই নতুন নীতি তাঁদের জন্য ভোটার তালিকায় ফেরার পথ অনেকটাই সহজ করে দিল।