‘থেরাপি আমরাও দিতে জানি!’ এসআরএফটিআই সংঘর্ষে বামেদের চরম হুংকার সুকান্ত মজুমদারের

কলকাতার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর ক্যাম্পাস আজও থমথমে। রবিবার অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (ABGP)-এর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন হাতাহাতি ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল, তার রেশ কাটেনি এখনও। রবিবারের সেই রক্তক্ষয়ী উত্তেজনার পর আজ সোমবার সকাল থেকেই এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসের বাইরে ও ভেতরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ক্যাম্পাসের অন্দরে থমথমে পরিবেশের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে চড়ছে রাজনৈতিক তাপমাত্রার পারদ।

‘থেরাপি আমরাও দিতে জানি!’—সুকান্ত মজুমদার

রবিবারের এই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য সরাসরি বাম শিবিরকেই দায়ী করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বামেদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “হঠাৎ করে বামেরা একটু জেগে উঠেছে। আমরা অনেক সময় বলি বামেদের অনেকে ভালো মানুষ ছিলেন, এটা আমাদের ভদ্রতা ও সৌজন্যবোধ। কিন্তু সেই ভদ্রতাকেই বামেরা দুর্বলতা ভাবছে। বামেদের অনেক ভাগ আছে, অতি বাম, ছোট বাম। প্রত্যেকের জন্য দাওয়াই আছে। থেরাপি আমরাও দিতে জানি। এবার সেই থেরাপি চলবে।”

শুধু তাই নয়, গতকালের গোলমালের সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন সুকান্তবাবু। তাঁর অভিযোগ, আরএসএস বিরোধিতার নামে ওই অনুষ্ঠানে ‘ভারত মাতা’-র ছবি এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

পঞ্চসায়র থানায় জোড়া-তিনটি এফআইআর

সংঘর্ষের জেরে রবিবার রাতেই পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পঞ্চসায়র থানায় মোট তিনটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
১. ক্যাম্পাসের ভিতরে গাড়ি ভাঙচুর এবং গাড়ি ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় পুলিশের তরফ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
২. অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া এবং আয়োজকদের মারধর করার অভিযোগ জানিয়ে মামলা করেছেন এবিজিপি-র উদ্যোক্তারাও।
৩. অন্যদিকে, আইনগতভাবে অনুমতি নিয়ে সভা করার পরেও পড়ুয়াদের উপর বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ তুলে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন এসআরএফটিআই-এর ছাত্রছাত্রীরা।

রবিবারের তাণ্ডব ও বন্দিদশা

রবিবার দুপুরের দিকে এসআরএফটিআই-এর মূল থিয়েটারে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠান চলাকালীন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে তাঁদের উপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে। অন্যদিকে, আয়োজকদের পাল্টা দাবি ছিল, তাঁদের শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান জোর করে বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে পড়ুয়ারা।

এই সংঘর্ষের জেরে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধে গোটা চত্বরে। শুরুতে ক্যাম্পাসের মূল গেট বন্ধ করে দেওয়ায় পুলিশকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেন পড়ুয়ারা। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই অচলাবস্থার জেরে বহু শিক্ষক, আবাসিক এবং পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসের ভেতরেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এমনকি হামলায় আহত প্রায় ১০ জন পড়ুয়াও দীর্ঘক্ষণ ভেতরে বন্দি অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে, যার মধ্যে দু’জনের চোট যথেষ্ট গুরুতর। আপাতত পুলিশি নিরাপত্তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে, তবে গোটা ঘটনার জেরে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনার আবহ বজায় রয়েছে শিক্ষা প্রাঙ্গণে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *