স্বপ্ন দেখার জায়গায় রক্তপাত! SRFTI সংঘর্ষ নিয়ে যা বললেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়

সিনেমা তাঁদের কাছে শুধু পেশা নয়, স্বপ্ন দেখার এক রাস্তা। অনিশ্চয়তা বেশি জেনেও মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা সৃজনশীলতার এই জগৎকে বেছে নেন। কিন্তু রবিবার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর ক্যাম্পাসে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি অনভিপ্রেত ঘটনাই নয়, বরং দেশের শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিসর ও তার পবিত্রতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আর এই সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে এবার অত্যন্ত কড়া ভাষায় মুখ খুললেন বিশিষ্ট পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।
কী ঘটেছিল এসআরএফটিআই-তে?
গত ২৭ সেপ্টেম্বর SRFTI-এর মূল থিয়েটারে ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি জানাতে যাওয়া পড়ুয়াদের উপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, আয়োজকদের পাল্টা দাবি, তাঁদের অনুষ্ঠান ও সদস্যদের উপরও চড়াও হওয়া হয়েছিল। দুই পক্ষের সংঘর্ষে শিক্ষক ও পড়ুয়া সহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনা দেশের এই গৌরবময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র মহলের একাংশ।
‘ব্যাঙ্কোয়েট হলের মতো জায়গা ভাড়া দেওয়া হচ্ছে কেন?’
পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, FTII কিংবা SRFTI-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলি স্রেফ কিছু চার দেওয়ালের ঘর নয়; এগুলি দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন তৈরির কারখানা। মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা আর্থিক নিরাপত্তার কথা না ভেবে শুধুমাত্র সৃজনশীলতার টানে এখানে আসেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাইরের কোনো সংগঠন বা অনুষ্ঠানকে ক্যাম্পাস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
কৌশিকের স্পষ্ট প্রশ্ন, এই ধরনের জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কি তবে আর দশটি বেসরকারি ব্যাঙ্কোয়েট হল বা অনুষ্ঠান বাড়ির মতো ভাড়া দেওয়া হবে? প্রতিষ্ঠানের চরিত্র, উদ্দেশ্য এবং পঠনপাঠনের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
স্বপ্নভঙ্গের জায়গা যেন না হয়!
সংঘর্ষের নেপথ্যে কার কী দোষ, তা তদন্ত সাপেক্ষ। তবে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে কৌশিকের বার্তা, নিজেদের ক্যাম্পাসের গুরুত্ব ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন না হলে এই ধরনের অশান্তি আগামী দিনের সিনেমা এবং তরুণ প্রতিভাদের ভবিষ্যৎকেও অন্ধকারে ঠেলে দেবে। ক্যামেরা, আলো ও গল্প বলার স্বপ্নের জায়গাগুলি হিংসার আঁতুড়ঘরে পরিণত হোক—এমনটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।