এক দল খাম প্রতীক নিয়ে লড়েছে জেনেও অন্যকে তা দেওয়া হল কেন? নির্বাচন কমিশনকে তুলোধোনা হাইকোর্টের!

একটি রাজনৈতিক দল খাম (Envelope) প্রতীকে নির্বাচন লড়েছে জেনেই বা অন্য একটি দলকে সেই প্রতীক কীভাবে বরাদ্দ করা হলো? এই গুরুতর প্রশ্ন তুলে এর আগে থেকেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে কলকাতা হাইকোর্ট। এবার রাজ্যের আসন্ন দুই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও একবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, কমিশনের স্বচ্ছতা না থাকলে সাধারণ মানুষকে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে কেন? দীর্ঘ শুনানি শেষে এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ।

ঠিক কী নিয়ে এই আইনি লড়াই?

আইএসএফ (ISF) ইতিপূর্বে খাম প্রতীকেই একাধিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা উপনির্বাচনে সেই প্রতীকটি দিয়ে দেওয়া হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে। অন্যদিকে, আইএসএফ-কে দেওয়া হয় ‘আলমারি’ প্রতীক। প্রতীক বদলের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল আইএসএফ।

সোমবার মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। আদালতের প্রশ্ন, আগের প্রতীক পাওয়ার অধিকার রাজনৈতিক দলের না থাকতেই পারে, কিন্তু পুরনো প্রতীকটি চাওয়ার দাবি তো তাদের পক্ষ থেকে স্বাভাবিক। সেই আবেদন গ্রাহ্য না করে অন্য একটি দলকে সেই প্রতীক হুট করে কীভাবে দিয়ে দেওয়া হলো?

কমিশনের যুক্তি বনাম আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ

শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু সাহা আদালতে যুক্তি দেন যে, সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একটি ভোটের ফল প্রকাশের পরই সেই পর্বের সমাপ্তি ঘটে। এছাড়া ফ্রি সিম্বল বা মুক্ত প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী। কমিশনের বক্তব্য, “সিম্বল বা প্রতীক কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো দলের একচ্ছত্র অধিকারও থাকতে পারে না।”

কমিশনের এই যুক্তি শোনার পরই বিচারপতি রাও পালটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। তিনি জানতে চান, আইএসএফ যে প্রতীক পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল এবং তাদের সেই আবেদন যে আদৌ বিবেচনা করা হয়েছিল, তার সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি কোথায়? ঠিক কোন আইনি ধারা মেনে নির্বাচন কমিশন গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে ওই প্রতীক বরাদ্দ করল, তার যথাযথ আইনি ব্যাখ্যা তলব করেছে আদালত।

বিচারপতি আরও কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, “আসলে কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই একটা অনিয়ম করে রেখেছে এবং এখন আপনারা তার পক্ষ সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন। যদি নির্বাচন কমিশন কোনো প্রাইভেট পার্টির দ্বারা চালিত হয়, তবে তো যা হওয়ার তাই হবে। অথরিটি স্বচ্ছ না হলে এই ধরনের জটিলতাই তৈরি হবে।”

অন্যদিকে, আইএসএফ-এর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে, প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে কমিশনের এই একপেশে ক্ষমতা মেনে নেওয়া যায় না। সব মিলিয়ে, আগামী দিনে আদালতের রায় কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *