“১০০টা সূঁচ ফুটিয়েছে…!” বিগ বসের ঘরে সৃজলার কান্নায় ভেঙে পড়লেন নন্দিনী, শোকে ভাসল পুরো সেট

টেলিভিশনের পর্দা কাঁপিয়ে তুলছে বিগ বস বাংলার ঘর। রিয়েলিটি শোয়ের অন্দরে এখন চলছে চরম উত্তেজনা আর আবেগপ্রবণ মুহূর্ত। শোয়ের ঘরে ফিরে আসার পরই সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে প্রতিযোগীদের সমীকরণ। সম্প্রতি উইকেন্ডের আসরে সঞ্চালক সৌরভ গাঙ্গুলির সামনে নিজের যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী সৃজলা গুহ। তাঁর সেই কষ্টের কথা শুনে শোকে পাথর হয়ে যান প্রতিযোগী নন্দিনী দত্তও।
খেলার মাঝে একটি টাস্কের সময় নন্দিনীর ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন সৃজলা। আঘাত এতটাই জাসি ছিল যে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেদিন আসলে ঠিক কী ঘটেছিল? সৌরভের এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে গলা ধরে আসে সৃজলার। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানান, হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে টানা পাঁচ দিন। শরীরের নানা জায়গায় ফোটাতে হয়েছে প্রায় একশোটি সূঁচ।
হাসপাতালের সেই যন্ত্রণাদায়ক দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সৃজলা বলেন, পাঁচ দিন ধরে একটা অচেনা শহরে সম্পূর্ণ একা কাটিয়েছেন তিনি। কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ছিল না। নিয়মিত ড্রেসিং করার সেই অসহ্য যন্ত্রণা আজও তাঁর মনে ভীতি তৈরি করে। আবেগের সঙ্গে তিনি উচ্চারণ করেন, এমন অভিশাপ যেন তাঁর শত্রুর কপালেও না জোটে।
ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নন্দিনীকে ঘিরে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। একটা বড় অংশের দর্শক তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান এবং নেটমাধ্যমে বয়কটের দাবিও ওঠে। যদিও নন্দিনীর টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে আঘাতটি একেবারেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না, তবুও তাঁর গেম প্ল্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে।
তবে শনিবার সৌরভের সামনে সৃজলার মুখ থেকে পুরো ঘটনা শোনার পর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নন্দিনী। রাজবীরের সামনে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলে তিনি জানান, তাঁর কারণে এমন মারাত্মক ক্ষতি হবে তা তিনি ভাবতেই পারেননি। এই ঘটনা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় গ্লানি এবং অভিশাপ হয়ে থেকে গেল বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন সঞ্চালক সৌরভ গাঙ্গুলিও। নিজের ভুল বুঝতে পারলেও নন্দিনীকে একটি কড়া ‘ফাইনাল ওয়ার্নিং’ দিতে ভোলেননি মহারাজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত বিচার করার ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র দর্শকদের হাতে।
এদিকে সৃজলার দুর্দশা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বাকি প্রতিযোগীরাও। সোনামণি সাহা থেকে শুরু করে ভরত কল—প্রত্যেকের চোখেই ছিল জলের ধারা। সৃজলাকে সুরক্ষিত রাখতে না পারার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেন দুর্নিবার। সব মিলিয়ে এই আকস্মিক আবেগের বিস্ফোরণ রিয়েলিটি শোয়ের মোড় কোন দিকে নিয়ে যায় এবং সৃজলা শেষ পর্যন্ত সব ভুলে নন্দিনীকে ক্ষমা করতে পারেন কিনা, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকরা।