“রবিবারেও খোলা সমস্ত ব্যাঙ্ক!” সোম থেকে টানা ৩ দিনের ধর্মঘটের আগে কোন বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার?

রবিবারের ছুটির চেনা মেজাজ এ দিন গায়েব। ছুটির দিনেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোলা রয়েছে ব্যাঙ্কগুলি এবং সেখানে সাধারণ গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো। কিন্তু হঠাৎ কেন ছুটির দিনে ব্যাঙ্ক খোলার নির্দেশ দিল প্রশাসন? দ্য ওয়াল সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী টানা তিনদিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট এড়াতেই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ, রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, এই নির্দেশ মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখা খোলা থাকবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নিজস্ব নিয়মের উপর নির্ভর করবে।
কোন কোন ব্যাঙ্ক খোলা থাকছে?
আজ সরকারি নির্দেশ মতো পরিষেবা দেবে দেশের ১২টি প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, কানাড়া ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র, ইউকো ব্যাঙ্ক, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক এবং পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক।
পাশাপাশি, দেশের ২৮টি আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শাখাও আজ চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্ক সহ অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যের গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রবিবারেও ব্যাঙ্ক খোলার কারণ কী?
গত ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের প্রতিনিধিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই এই ছুটির দিনে ব্যাঙ্ক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মূলত ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর সপ্তাহান্তের ছুটির ঠিক পরপরই ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একটানা কয়েক দিন শাখা পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। সাধারণ মানুষের এই সম্ভাব্য চরম ভোগান্তি এড়াতেই আজ সমস্ত কাজ সেরে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
কী কী পরিষেবা মিলবে?
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমোদন অনুযায়ী, আজকের দিনে ব্যাঙ্কের শাখা, অফিস, এটিএম-সংযুক্ত শাখা এবং কারেন্সি চেস্ট চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ব্যাঙ্কে কর্মী উপস্থিতি সাপেক্ষে নিয়মিত সমস্ত শাখার কাজই করা সম্ভব হচ্ছে। এর পাশাপাশি নেট ব্যাঙ্কিং, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, আইএমপিএস, এনইএফটি এবং আরটিজিএসের মতো ডিজিটাল পরিষেবাগুলিও যথারীতি চালু রয়েছে।
কেন এই ধর্মঘট?
ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (ইউএফবিইউ) এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ককর্মী সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বরও এক দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। ব্যাঙ্ককর্মীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা, পেনশন সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়মের পরিবর্তন এবং বকেয়া দাবিগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন। যদিও সরকার ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে ধর্মঘট প্রত্যাহার বা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।