বাড়ি বসেই মিটবে ভোটার কার্ডের সমস্যা! বিএলও-দের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি নির্বাচন কমিশনের

দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক তোলপাড়ের মধ্যেই সাধারণ ভোটারদের জন্য বড়সড় স্বস্তির বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সাধারণ মানুষের কাছে ভোগান্তিহীন করে তুলতেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির উপস্থিতিতে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই ভোটার তালিকা সংশোধন, শুনানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।

বাড়িতে বসেই জমা দেওয়া যাবে নথি: কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি বা আনম্যাপড (unmapped) হওয়ার কারণে যাঁদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁদের আর সরকারি দফতরে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে হবে না। এখন থেকে বিএলও-রা (BLO) সরাসরি নোটিশ প্রাপ্ত ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করবেন। এরপর সেই নথিগুলি কমিশনের নিজস্ব পোর্টাল ‘ECINET’-এ আপলোড করে দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।

শুনানি প্রক্রিয়ায় বড় ছাড়: সাধারণ ভোটারদের ইআরও বা এইআরও দফতরে শুনানির জন্য হাজির হওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, কেবল চরম ব্যতিক্রমী বা বিশেষ পরিস্থিতিতেই শুনানির ডাক দেওয়া হবে—যা সম্ভব হলে অনলাইন মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে। এমনকি বিশেষ প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারের পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে তাঁর হয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।

গৃহহীন ও শ্রমিকদের জন্য বিশেষ শিবির: দরিদ্র, গৃহহীন, শ্রমিক এবং নৈশ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের নাম ভোটার তালিকায় সহজে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রতিটি জেলার নির্বাচন আধিকারিকদের পর্যাপ্ত হেল্প ডেস্কে বিশেষ ক্যাম্প বা এনরোলমেন্ট ড্রাইভ (Enrolment Drive) চালুর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

নতুন আবেদন ও নাম তোলার সুযোগ: কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সহ প্রায় ২০টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলেও প্রক্রিয়াটি একেবারেই বন্ধ হচ্ছে না। এর মধ্যে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে অথবা যাঁরা নতুন বা প্রথমবার ভোটার হচ্ছেন, তাঁরা ‘কন্টিনিউয়াস আপডেট’ (Continuous Updation)-এর অধীনে ইআরও-র কাছে পুনরায় নাম তোলার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।

ECINet খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি: কমিশনের নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ‘ECINET’ পোর্টালের কার্যকারিতা এবং আইনসিদ্ধ ব্যবহার বজায় রাখতে একটি বিশেষ পর্যালোচনা কমিটি গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে। একজন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের (DEC) নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে আইআইটি (IIT) বা আইআইআইটি (IIIT)-র একজন স্বতন্ত্র প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞও থাকবেন। দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বাড়তে থাকা বিতর্কের মুখেই তিন কমিশনারের একযোগে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *