১০ লক্ষ টাকা আর বিয়ের জেদ! চণ্ডীগড়ে পুলিশ কনস্টেবল বাবাকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি ১৮ বছরের কিশোরের

প্রেমিকা ও বিয়ের জেদে অন্ধ হয়ে নিজের জন্মদাতা বাবাকেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দিল ১৮ বছরের এক কিশোর! চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২২-এর সরকারি আবাসন চত্বরে ঘটা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। নিহত ব্যক্তির নাম নিতিন সিং, যিনি চণ্ডীগড় পুলিশের সদর দপ্তরের অ্যাকাউন্টস বিভাগে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। নাবালক ছেলেকে আপাতত গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নিজের এক বান্ধবীকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল ১৮ বছরের কিশোর আরমান। শুধু তা-ই নয়, বিয়ের জন্য বাবার কাছে নগদ ১০ লক্ষ টাকাও দাবি করেছিল সে। তবে দেশের আইনি বয়সের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাবা নিতিন সিং ছেলেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ২১ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই বিয়ের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। সঠিক বয়সে পৌঁছালে তবেই আইনি উপায়ে বিয়ে দেওয়া হবে।

আইনসম্মত এই সাধারণ পরামর্শটাই মেনে নিতে পারেনি আরমান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে তার চরম বাদানুবাদ ও অশান্তি শুরু হয়। এর পর শুক্রবার সুযোগ বুঝে একটি বেআইনি দেশি পিস্তল বের করে সরাসরি বাবার মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেয় সে। ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন ওই পুলিশ কনস্টেবল।

নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়! বাবাকে খুনের পর নিজের মাকেও নিশানা করে ঘাতক ছেলে। তাঁর গলা টিপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায় সে। তবে কোনোরকমে ছেলের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে বাড়ির ছাদে গিয়ে চিৎকার করতে শুরু করেন আতঙ্কিত মা। প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে আরমান ঘটনাটি অন্য খাতে মোড় দেওয়ার চেষ্টা করে। সে দাবি করতে থাকে, বাইর থেকে কোনো দুষ্কৃতী এসে তার বাবাকে খুন করে পালিয়ে গিয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করার পাশাপাশি আরমানকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাবাকে এত নির্মমভাবে হত্যা করার পরেও ওই কিশোরের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা অপরাধবোধ দেখা যায়নি। চণ্ডীগড় পুলিশ ঘটনার নেপথ্যে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণ শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *