বাংলায় এক লাফে দ্বিগুণ হচ্ছে আরএসএসের শাখা! আগামী ৮ অক্টোবর বর্ধমানে আসছেন মোহন ভাগবত, কোন বড় ছক কষছে সঙ্ঘ?

বাংলায় নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। আগামী ৮ অক্টোবর রাজ্যে আসছেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত। বর্ধমানে তাঁর একটি উচ্চপর্যায়ের সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে। আসন্ন এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে। সঙ্ঘ সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো সম্পূর্ণ বদলে ফেলা থেকে শুরু করে আগামী এক বছরের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করা হবে।

শাখা বাড়ানোর মেগা লক্ষ্যমাত্রা: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সংগঠন বিস্তারে বিশেষ জোর দিচ্ছে সঙ্ঘ। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলায় শাখা সংখ্যা রাতারাতি দ্বিগুণ করার বড় লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৫ হাজার শাখা রয়েছে, যা আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে—অর্থাৎ মহালয়ার আগেই—১০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার টার্গেট স্থির করা হয়েছে। ১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচি চালিয়ে তরুণ প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, সংখ্যালঘু সমাজের কাছেও নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সঙ্ঘ। ইতিমধ্যেই কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে ‘মাইনরিটি সিটিজেন্স ফোরাম’-এর ব্যানারে বিশেষ কর্মসূচি পালিত হতে চলেছে।

পরিবর্তিত হচ্ছে সাংগঠনিক কাঠামো: বাংলার বর্তমান ‘প্রান্ত’ভিত্তিক পরিকাঠামো ভেঙে এবার সারা দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘সম্ভাগ’ ভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন এই বিন্যাসে উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, বর্ধমান ও মেদিনীপুরকে ঘিরে সম্ভাগ তৈরি করা হতে পারে। চার-পাঁচটি জেলাকে একটি নির্দিষ্ট জোনের আওতায় এনে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিচুতলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতেই এই পরিবর্তন।

নিউ টাউনে নতুন ভবন ‘কেশব স্মৃতি’: রাজ্যে কাজের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় নতুন পরিকাঠামোও গড়ে তুলেছে সঙ্ঘ। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া 2ডি-তে নবনির্মিত পাঁচতলা ভবন ‘কেশব স্মৃতি’-র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে গেল। সঙ্ঘের সর্বভারতীয় সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে এই ভবনের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীসহ সঙ্ঘ ও গেরুয়া শিবিরের একাধিক বিশিষ্ট নেতৃত্ব। কলকাতার মানিকতলার ঐতিহ্যবাহী কেশব ভবনের পাশাপাশি নতুন এই ভবনটি ভিনরাজ্য থেকে আসা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের বৈঠক ও আবাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

সবমিলিয়ে, দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই মোহন ভাগবতের এই সফর এবং লাগাতার সাংগঠনিক পরিবর্তন বাংলার রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *