৬৪ খোপের জাদুতে বাড়ছে মেধা! মফঃসল থেকে বাংলার নতুন গ্র্যান্ডমাস্টার তুলে আনতে বড় ঘোষণা দিব্যেন্দু বড়ুয়ার

“তাস, দাবা, পাশা—তিন সর্বনাশা”—ছোটবেলায় বড়দের মুখে এই প্রবাদ বাক্যটি শোনেননি, এমন বাঙালি হয়তো খুঁজে পাওয়া ভার। একসময় দাবাকে বড়দের সময় কাটানোর মাধ্যম বা বয়স্কদের খেলা বলেই মনে করা হতো। তবে সেই ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে বর্তমান প্রজন্ম এখন মেতে উঠেছে ৬৪ খোপের এই বুদ্ধির লড়াইয়ে। আর এই পরিবর্তনের মাঝেই আসানসোলের একটি বেসরকারি স্কুলে আয়োজিত ইন্টারস্কুল দাবা প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হয়ে খুদে প্রতিভাদের দারুণভাবে উৎসাহ দিলেন দেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার ও অর্জুন বিজয়ী দিব্যেন্দু বড়ুয়া।
দাবাই আসল ‘মাইন্ড জিম’: আসানসোলের বিভিন্ন নামী স্কুল থেকে প্রায় ১৩০ জন প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। ছোটদের এত বড় জমায়েত দেখে দারুণ নস্টালজিক হয়ে পড়েন দিব্যেন্দু বড়ুয়া। ইটিভি ভারতকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দাবা কেবল কোনো সাধারণ খেলা নয়, এটি আদতে একটি ‘মাইন্ড জিম’। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে নিয়মিত দাবা খেললে সাধারণ মানুষের তুলনায় শিশুদের আইকিউ লেভেল বা বুদ্ধিমত্তা অনেক বেশি বিকশিত হয়। বর্তমান সময়ে তাই বাবা-মায়েরাও চান তাঁদের সন্তানরা মন দিয়ে দাবা শিখুক।
প্রান্তিক এলাকার প্রতিভাদের তুলে আনার পরিকল্পনা: খুদে খেলোয়াড়দের প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হলেও দিব্যেন্দু বড়ুয়া মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মূল লড়াইটা লুকিয়ে রয়েছে মফঃসল বা প্রান্তিক এলাকাগুলিতে। বড় শহরগুলির মতো গ্রাম বা ছোট শহরের ছেলেমেয়েরা অনেক সময়ই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, সঠিক প্রশিক্ষণ বা পর্যাপ্ত টুর্নামেন্টের সুযোগ পায় না। এই সমস্যার সমাধানে রাজ্য দাবা সংস্থার পক্ষ থেকে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। রাজ্যজুড়ে আরও বেশি করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা গেলে প্রান্তিক এলাকা থেকেই আগামী দিনে বহু আন্তর্জাতিক মাস্টার (IM) এবং গ্র্যান্ডমাস্টার (GM) উঠে আসবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
বাংলার দাবা এখন কোন জায়গায়? বাংলার দাবির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে দিব্যেন্দু বড়ুয়া জানান যে, বর্তমানে দেশের মধ্যে গ্র্যান্ডমাস্টার তৈরির ক্ষেত্রে বাংলা অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এই মুহূর্তে রাজ্যে ১১ জন গ্র্যান্ডমাস্টার রয়েছেন এবং ভারতজুড়ে বাংলা তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। এছাড়া রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে যেভাবে অসাধারণ পারফরম্যান্স করছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে বাংলা থেকে আরও একাধিক গ্র্যান্ডমাস্টার দেশকে গর্বিত করবে বলেই আশাবাদী এই কিংবদন্তি দাবাড়ু।