৫ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট আর আন্তর্জাতিক যোগ! ভুয়ো বোমাতঙ্কের তদন্তে নেমেই গুগলকে কড়া প্রশ্ন পুলিশের

ভুয়ো ইমেল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লাগাতার বোমাতঙ্ক ছড়ানোর ঘটনায় এবার আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতর এবং ব্রিকস অংশীদারদের কাছে একটি হুমকি ইমেল আসে। যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, ভারতমণ্ডপমে অর্থাৎ মূল মঞ্চ ও তার আশপাশে বোমা রাখা আছে। এই ঘটনার পরই নিরাপত্তা রক্ষীদের মধ্যে তীব্র তৎপরতা শুরু হয় এবং চিরুনি তল্লাশি চালিয়েও বোমার কোনও হদিশ মেলেনি। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

অন্যদিকে, গত ১০ সেপ্টেম্বর গুজরাত সরকারের কাছেও একই কায়দায় বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে একটি ইমেল পাঠানো হয়। এরপরই তদন্তে নামে গুজরাত পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ যা জানতে পারে, তা রীতিমতো চমকে ওঠার মতো। পুলিশ জানিয়েছে, ভুয়ো বোমাতঙ্ক ছড়ানোর জন্য গুগল প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৫ লক্ষ ফেক জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছিল।

গুজরাত পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, চিহ্নিত হওয়া ওই ৫ লক্ষ ফেক অ্যাকাউন্টের প্রতিটিতেই টু-ফ্যাক্টার অথেন্টিকেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত বাল্ক অ্যাকাউন্ট বা বট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই ধরনের উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে না। ফলে এই বিপুল সংখ্যক জিমেইলে কীভাবে টু-ফ্যাক্টার অথেন্টিকেশন ব্যবহার করা হলো এবং সেগুলির উৎস কোথায়, তা নিয়ে এখন গুগলের কাছে জবাব চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই অপরাধমূলক কাজের শিকড় শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। ধৃতদের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে বৃহৎ সংখ্যক জিমেইল আইডি কিনে নিয়ে ওপার বাংলার অপরাধীরা এই নাশকতার ছক কষছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং এই ধরণের সাইবার ফাঁকফোকড় বন্ধ করতে এখন গুগলের স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *