বাংলায় প্রথমবার তাক লাগানো উদ্যোগ! মাতৃভাষায় গবেষণাপত্র প্রকাশ করতেই হুড়মুড় করে ভিড় জমাচ্ছেন গবেষকরা

বিজ্ঞানের সাফল্যকে কেবল গবেষণাগারের গণ্ডির মধ্যে আটকে না-রেখে তা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োগ করার ওপর জোর দিল রাজ্য সরকার। বুধবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে শুরু হওয়া ৩৩তম রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কংগ্রেসের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে উঠে এল এই বার্তা। ১৯৯৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বিজ্ঞান মঞ্চে এ বছর রেকর্ড সংখ্যক মানুষের সমাগম দেখা গেছে, যেখানে প্রথম দিনেই দেশ-বিদেশের প্রতিনিধি, গবেষক, উপাচার্য ও পড়ুয়া মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষ ভিড় জমান।

এদিনের এই বিপুল আয়োজনের মাঝেই রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রসারকে তরান্বিত করতে একাধিক বড় পদক্ষেপ করেছে সংশ্লিষ্ট দফতর। নদিয়ার কৃষ্ণনগরে একটি আধুনিক ‘অ্যাস্ট্রো পার্ক’ এবং কালিম্পঙে একটি নতুন ‘বায়োটেক হাব’-এর শিলান্যাস করা হয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়ামের যৌথ উদ্যোগে কর্কটক্রান্তি রেখার উপর কৃষ্ণনগরের এই পার্কটি গড়ে উঠছে। অন্যদিকে, পাহাড়ের জীববৈচিত্র্যকে সঠিক উপায়ে কাজে লাগাতে কালিম্পঙে আসছে বায়োটেক হাব।

পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌ (MoU) স্বাক্ষর করেছে রাজ্য সরকার। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল ম্যাপ এবং পঞ্চায়েত স্তরে রাজ্যের নিজস্ব মানচিত্র তৈরির জন্য ‘ন্যাটমো’-র সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে। মহাকাশ গবেষণার পাঠ স্কুল ও উচ্চশিক্ষায় জনপ্রিয় করতে ইসরো-র সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী স্বামী বিবেকানন্দের বাণী স্মরণ করে জানান যে, বিজ্ঞানের সাফল্যকে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের বায়োটেকনোলজি অর্থনীতি প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, আর সেই সুযোগ হাতছাড়া না করে বাংলাকেও এখন থেকেই প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। এছাড়া, মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চাকে উৎসাহিত করতে এ বারই প্রথম বিজ্ঞান কংগ্রেসের ১২টি বিষয়ের ২১৫টি গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় প্রকাশ করা হয়েছে, যা এই আয়োজনকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *