বাবার মৃত্যুর পর ভাঙেননি নিয়ম! মহাসমারোহে গণেশ পুজো সেরে কোন নজির গড়লেন সাইনা?

সোমবার টলিউডের বহু তারকাই অত্যন্ত ধুমধাম করে পালন করলেন গণেশ চতুর্থীর অনুষ্ঠান। জিৎ, দেব, রাজ-শুভশ্রী থেকে শুরু করে কাঞ্চন-শ্রীময়ী—সকলেই সামিল হয়েছিলেন গণপতির আরাধনায়। আর এর মাঝেই নজর কাড়ল প্রয়াত ও জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার। সমস্ত নিয়ম ও নিষ্ঠা মেনে সাইনা ও সংযুক্তার উদ্যোগে অভিষেকবাবুর বাড়িতেও মহাসমারোহে পালিত হলো গণেশ পুজো।

সাড়ম্বরে গণেশ আরাধনা ও ভোগের মেনু
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে একদম যজ্ঞ করে গণপতির আরাধনা করা হয়। পুজো উপলক্ষে গোলাপি রঙের একটি সুন্দর থ্রি পিস শারারা সেটে সেজেছিলেন ‘লাজু’ খ্যাত সাইনা, আর সংযুক্তাকে দেখা গিয়েছিল ঐতিহ্যবাহী সাদা-সোনালি সালোয়ারে। অভিনেত্রী সাইনা জানান, পুজোর আল্পনা তিনি নিজেই দিয়েছেন, যদিও সার্বিক আয়োজনের মূল দায়িত্বে ছিলেন তাঁর মা। বিশেষ এই পুজোয় ভোগের মেনুতেও ছিল এলাহি আয়োজন—পোলাও, পনির, আলুর দম, লাড্ডু, হরেক রকমের মিষ্টি ও লুচি। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ঘটা করে জন্মাষ্ঠমীর পুজো করেছিলেন তাঁরা। প্রতিবছর বাড়িতে নিয়ম করে দুর্গাপুজোও করে এসেছেন তাঁরা। ২০২২ সালের ২৪ মার্চ অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণের পরেও বাবার সেই স্মৃতিবিজড়িত পুজোর ঐতিহ্য একচুলও বন্ধ হতে দেননি তাঁরা।

অভিনয়ের দুনিয়ায় পথচলা ও স্মৃতির পাতা
খুব কম বয়সেই নিজের অভিনয়ে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন সাইনা। বাবাকে ছোট থেকেই অভিনয় করতে দেখে তাঁর চোখেও বড় হয়ে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দানা বেঁধেছিল। তাঁর প্রথম কাজ ছিল জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘অনুরাগের ছোঁয়া’, যেখানে রূপার কিশোরীবেলার চরিত্রে মাসখানেকের জন্য তাঁকে দেখা গিয়েছিল।

তবে সাইনাকে ঘরে ঘরে এক পরিচিত মুখ করে তুলেছে ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকটি। বিশেষ করে এই মেগা সিরিয়ালে সোমরাজ মাইতির সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকের বেশ নজর কেড়েছিল। যদিও হঠাৎ করেই ‘কনে দেখা আলো’-র গল্প শেষ করে দেওয়ায় দর্শকরা সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

দাদাগিরির মঞ্চে এসে প্রয়াত বাবাকে নিয়ে একটি মধুর ও আবেগঘন স্মৃতির কথা শেয়ার করেছিলেন সাইনা। তিনি জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় বাবা তাঁকে নিজের একটি সিনেমা দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে ভিলেনের দল অভিষেককে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করছিল। পর্দায় বাবার সেই মার খাওয়ার দৃশ্য দেখে ছোট্ট সাইনা এতটাই ভয় পেয়ে যান যে, তিনি আর জীবনে বাবার কোনো সিনেমা না দেখারই সিদ্ধান্ত নেন। এরপর একটু বড় হওয়ার পর যখন ফের বাবার ছবি দেখতে যান, দুর্ভাগ্যবশত সেই একই দৃশ্য তাঁর চোখে পড়ে—যেখানে ভিলেনের হাতে মার খাচ্ছেন বাবা! সেই بچপনের ভয় থেকেই বাবার ছবি দেখা চিরতরে বন্ধ করে দেন তিনি।

পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অভিনয়ের তুমুল চাপের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সমান পারদর্শী সাইনা। একটানা শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত স্কুল করা সম্ভব না হওয়ায়, তিনি হোম স্কুলিংয়ের পথ বেছে নেন এবং আন্তর্জাতিক বোর্ড IGCSE থেকে ক্লাস টেনের বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেন। বর্তমানে তিনি এই বোর্ড থেকেই ক্লাস টুয়েলভের পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্কুলশিক্ষা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য সুদূর বিদেশে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে মনোবিজ্ঞান নিয়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করার সুপ্ত ইচ্ছে রয়েছে এই প্রতিভাবান তরুণীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *