বাঙালির প্রিয় ঘুগনিকে ইংরেজিতে কী বলা হয় জানেন? নাম শুনলে অবাক হবেন!

গরম ধোঁয়া ওঠা ঘুগনির সঙ্গে একটু পাউরুটি কিংবা মুড়ি—বাঙালির কাছে এ এক স্বর্গীয় অনুভূতি। পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত অফিসের ক্যান্টিন, সব জায়গাতেই এই খাবারের অবাধ বিচরণ। শুধু বাংলা বা বিহার-ওড়িশাই নয়, বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই পদটি এখন সারা বিশ্বেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভিনদেশি মানুষজনও সুযোগ পেলে এটি চেখে দেখেন, কিন্তু আসল সমস্যা বাঁধে এর নামকরণ নিয়ে। আদ্যোপান্ত দেশি এই খাবারটির আদতে কোনো নির্দিষ্ট বা আভিধানিক ইংরেজি নাম নেই।

যেমন পিৎজা বা পাস্তার কোনো বাংলা হয় না, তেমনই ঘুগনিরও নিজস্ব কোনো সরাসরি ইংরেজি প্রতিশব্দ নেই। শুধুমাত্র বিদেশিদের বোঝানোর জন্য এটিকে ইংরেজিতে ‘Dry Yellow Pea Curry’ বা ‘Spicy Yellow Pea Curry’ বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, এটি কোনো আক্ষরিক অনুবাদ নয়, বরং খাবারটি ঠিক কী দিয়ে তৈরি, তা বোঝাতেই এই ইংরেজি শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়। তা না হলে বিশ্বজুড়ে এটি ‘ঘুগনি’ নামেই সমাদৃত।

মূলত শুকনো হলুদ মটর সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সেদ্ধ করে এই সুস্বাদু পদটি বানানো হয়। এরপর পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও নানা রকম দেশি মশলা কষিয়ে তৈরি হয় লোভনীয় ঘুগনি। যেহেতু হলুদ মটর বা ‘Yellow Pea’ এর প্রধান উপকরণ, তাই ওই ইংরেজি নামেই এটি বিদেশিদের কাছে পরিচিত। নিরামিষ ঘুগনি ছাড়াও বাঙালির অন্যতম দুর্বলতা হলো মাংসের কিমা দেওয়া স্পেশাল ঘুগনি। ছোট ছোট খাসির মাংসের টুকরো দিয়ে বানানো এই পদটিকে বিদেশিরা ‘Mutton and Yellow Pea Curry’ হিসেবেই বেশি চিনে থাকেন।

স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এই পদটি দারুণ উপকারী। মটরে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ফাইবার থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ভালো। তাই এরপর থেকে কোনো বিদেশি বন্ধুকে এই দেশি পদটি খাওয়াতে নিয়ে গেলে অনায়াসেই এই ইংরেজি নামগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তবে নাম যাই হোক না কেন, বাঙালির কাছে এটি চিরকালই শুধু ‘ঘুগনি’ হিসেবেই রাজত্ব করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *