ব্রিকস মঞ্চে ইরান-ইউএই গোপন বৈঠক! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘I don’t care’ মন্তব্যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের মঞ্চে কূটনীতির নতুন সমীকরণ দেখতে পেল বিশ্ব। একদিকে যখন ভারতের মাটিতে বিশ্বনেতারা শান্তি ও সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এক প্রকার এড়িয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও ইউএই-র নেতার মেগা বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। আর এই সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র ও নির্বিকার প্রতিক্রিয়া গোটা বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

এই চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক খবরের ৫টি প্রধান দিক একনজরে দেখে নিন:

  • ট্রাম্পের ‘I don’t care’ মন্তব্য: ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠক নিয়ে মুখ খুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, এই দুই দেশের নেতাদের বৈঠক নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই—”আমার কিচ্ছু যায় আসে না (I don’t care)।”

  • যুদ্ধের অবসান ও তেলের দাম কমার ইঙ্গিত: আমেরিকার আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনের পরেই ইরান যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে বলে বড় দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, যুদ্ধ থামলেই বিশ্ববাজারে পেট্রল ও গ্যাসোলাইনের দাম হু হু করে নামবে।

  • ইরান একটি চুক্তি করতে চায়: ট্রাম্পের দাবি, তেহরান বর্তমানে আক্ষরিক অর্থেই কোণঠাসা এবং তারা আমেরিকার সঙ্গে একটি চুক্তি করার জন্য মরিয়া হয়ে বারবার যোগাযোগ করছে। তবে তাঁর সাফ কথা, “ওরা চুক্তি করতে চাইছে ঠিকই, কিন্তু সেই চুক্তি আমার শর্ত অনুযায়ী একদম সঠিক হতে হবে। কোনো মাঝারি মানের চুক্তি হবে না।”

  • তেহরানের কড়া অবস্থান: অন্যদিকে, ব্রিকসের মঞ্চে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁদের বিরোধ আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর উপস্থিতি এবং সেগুলির মাধ্যমে চালানো রক্তক্ষয়ী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে।

  • দিল্লি ঘোষণাপত্রের বার্তা: এদিকে নয়াদিল্লি ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতারা একসুরে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও উত্তেজনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখার জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির এই মারপ্যাঁচ এবং ট্রাম্পের এহেন হুংকার বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *