রাশিয়াকে হারাতে এবার যৌনতাকে অস্ত্র করল ইউক্রেন! পর্নোগ্রাফির টাকায় কিনবে হাজার হাজার ড্রোন?

রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটানা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে চরম চাপের মুখে পড়েছে ইউক্রেন। যুদ্ধের এই আকাশছোঁয়া খরচ মেটাতে এবং সামরিক বাহিনীকে টিকিয়ে রাখতে এবার এক সম্পূর্ণ নজিরবিহীন ও অত্যন্ত বিতর্কিত পথে হাঁটার কথা ভাবছে দেশটির সংসদ। যুদ্ধের খরচ তুলতে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও সম্প্রচারকে আইনি বৈধতা দিয়ে তার ওপর ভারী কর বসানোর প্রস্তাব উঠেছে ইউক্রেনের আইনসভায়।

এই চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনার নেপথ্যের আসল তথ্যগুলি একনজরে:

  • ড্রোন কেনার অভিনব ফন্দি: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের পার্লামেন্টে পর্নোগ্রাফিকে অপরাধমুক্ত করার লক্ষ্যে আনা একটি বিল ইতিমধ্যেই প্রথম পাঠ পেরিয়ে দ্বিতীয় পাঠের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনসভার অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক জানিয়েছেন, এই শিল্পকে কর কাঠামোর আওতায় আনা গেলে বছরে অন্তত আড়াই কোটি ডলার রাজস্ব আদায় সম্ভব। আর সেই টাকা দিয়েই ইউক্রেনীয় সেনার জন্য প্রায় ৩০ হাজার নতুন সামরিক ড্রোন কেনা যাবে।

  • আইনি জটিলতা ও পুলিশি হয়রানি: বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর জন্য জেল পর্যন্ত হতে পারে। তবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ‘অনলিফ্যানস’-এর মতো প্ল্যাটফর্মে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় ক্রিয়েটর মোটা টাকা আয় করেন। কর দিতে গেলে পর্নোগ্রাফি আইনে জেলে যাওয়ার ভয়, আবার কর না দিলে আর্থিক অপরাধ—এমন এক ‘ট্র্যাজিকমিক’ পরিস্থিতির শিকার হয়ে পুলিশি ঘুষ ও তল্লাশির মুখে পড়ছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

  • জনগণের আবেদন ও বিলের ভবিষ্যৎ: এক জনপ্রিয় ক্রিয়েটরের প্রায় ৯ লক্ষ ডলার কর জমা দেওয়ার পরেও পুলিশি হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির দপ্তরে পৌঁছানোর পরেই বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। বিলের সমর্থকদের যুক্তি, অহেতুক পুলিশি দৌরাত্ম্য বন্ধ করে একে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনলে দুর্নীতি কমবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সবচেয়ে জরুরি অস্ত্র ‘ড্রোন’ কেনার পথ প্রশস্ত হবে।

যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকতে পর্নোগ্রাফি শিল্প থেকে রাজস্ব আদায়ের এই বাস্তবসম্মত অথচ নজিরবিহীন পদক্ষেপে ইউক্রেনীয় পার্লামেন্ট শেষ পর্যন্ত সিলমোহর দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *