সুরক্ষিত কর্পোরেট চাকরিও আর নিরাপদ নয়! ২০৩০ সালের মধ্যে যে বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্ব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) কি মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে, নাকি লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে? এই বহুচর্চিত বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে ওপেনএআই-এর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা ‘অ্যানথ্রপিক’-এর অর্থনৈতিক গবেষণা শাখা। তাদের সাম্প্রতিক এক বিশদ সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক অভূতপূর্ব কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নত জেনারেটিভ এআই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উৎপাদন বা জিডিপি অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে ঠিকই, কিন্তু সেই বৃদ্ধির চড়া মাশুল গুনতে হতে পারে শিক্ষিত ও দক্ষ পেশাদারদের— হারিয়ে যেতে পারে আমেরিকার প্রতি পাঁচটি ‘হোয়াইট কলার’ বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজের অন্তত একটি!

এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক একনজরে দেখে নিন:

  • বুদ্ধিবৃত্তিক কাজেও এআই-এর আধিপত্য: আগামী কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাধারণ অটোমেশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে এমন স্তরে পৌঁছাবে, যেখানে কোডিং, আর্থিক বিশ্লেষণ, আইনি নথিপত্র তৈরি এবং গ্রাহক পরিষেবার মতো জটিল কাজগুলো মানুষের চেয়েও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হবে।

  • জিডিপি বাড়বে, কিন্তু কমবে চাকরি: কর্পোরেট সংস্থাগুলোর উৎপাদনশীলতা ও মুনাফার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি বৃদ্ধিতে সরাসরি জ্বালানি জোগাবে এআই। তবে এর উল্টো পিঠেই লুকিয়ে রয়েছে হোয়াইট কলার বা অফিসভিত্তিক পেশার প্রায় ২০ শতাংশ পদ সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ার আশঙ্কা।

  • সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা? এতদিন প্রযুক্তির কারণে মূলত শারীরিক পরিশ্রমের কাজ বা ব্লু-কলার চাকরি বিপদে পড়লেও, এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছেন কর্পোরেট কর্মী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, জুনিয়র গবেষক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ব্যাক-অফিস অ্যানালিস্টরা।

  • আয়বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি: অর্থনীতির আকার বাড়লেও যদি দেশের একটি বড় অংশের চাকরি চলে যায়, তবে তা সমাজে মারাত্মক আয়বৈষম্য ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

  • রিস্কিলিং বা নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা: এই ধাক্কা সামলাতে কর্পোরেট দুনিয়া এবং সরকারকে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কর্মীদের নতুন যুগের প্রযুক্তি পরিচালনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ বা রিস্কিলিং দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকরা।

প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে সময় থাকতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে বেকারত্বের এই সংকট সমাজকে বড়সড় বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *