হাসপাতালের বদলে ওঝার কাছে দৌড়! সচেতনতার অভাবে সাপে কাটলে মৃত্যুর মুখে তলিয়ে যাচ্ছে মানুষ

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমাদের সমাজে শিকড় গেড়ে বসে রয়েছে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বর্ষার মরশুমে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সাপের উপদ্রব এবং সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা রীতিমতো চিন্তায় ফেলেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরকে। এখনও পর্যন্ত জেলায় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা ১৪০০ ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সিরাম (AVS) থাকা সত্ত্বেও কেন বাঁচানো যাচ্ছে না রোগীদের?

এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক একনজরে দেখে নিন:

  • ওঝা বনাম হাসপাতাল: স্বাস্থ্য আধিকারিকদের প্রধান অভিযোগ, সচেতনতার অভাবেই গ্রামীণ এলাকার মানুষ সাপে কামড়ালে প্রথমে হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় গুণিন বা ওঝার কাছে ছুটে যান। এর ফলে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ (চিকিৎসা শুরুর সঠিক সময়) নষ্ট হয়ে যায় এবং বিষ সারা রক্তে ছড়িয়ে পড়ে রোগীর মৃত্যু হয়।

  • বন্যা ও প্লাবিত এলাকায় উপদ্রব: জেলার ঘাটাল, দাসপুর, কেশপুর, গড়বেতা ও সবংয়ের মতো প্লাবিত এলাকাগুলিতে জলের কারণে সাপেরা শুকনো জায়গা বা মানুষের বাড়িঘরে আশ্রয় নিচ্ছে। এমনকি ত্রাণশিবির ও স্কুলগুলিতেও সাপের আনাগোনা বাড়ায় ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে গেছে।

  • সচেতনতার করুণ চিত্র: খোদ একজন সর্পবন্ধু বা সাপুড়ের পরিবারও যে সাপে কাটার পর ওঝার ওপর ভরসা করে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। যা সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

  • প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ: জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সিরাম মজুত থাকলেও মানুষ দেরিতে হাসপাতালে আসায় সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি, ঝাড়ফুঁক ও ওঝাগিরির নামে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া এই প্রতারকদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বিশেষজ্ঞদের মতামত: চিকিৎসকরা বারবার বলছেন, সাপে কামড়ালে কালক্ষেপ না করে অবিলম্বে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করে জীবন বাঁচানো একশো শতাংশ সম্ভব। কুসংস্কারের জাল ছিঁড়ে সচেতন হওয়ার সময় এখনই।

গ্রামাঞ্চলে সাপের কামড় নিয়ে এই ভীতিজনক পরিস্থিতি কাটাতে প্রশাসনিক সচেতনতা এবং সাধারণ মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনই এখন সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *