নাৎসি যুগের পর ফের রক্তাক্ত ইতিহাসের হাতছানি! জার্মানির নির্বাচনে এই বিরাট বিপর্যয়ে কাঁপছে পুরো ইউরোপ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাস এবং নাৎসি জমানার পতনের পর দীর্ঘ দশক ধরে জার্মান রাজনীতিতে কট্টর দক্ষিণপন্থীদের প্রভাব একপ্রকার কোণঠাসাই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নির্বাচনে সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেল। জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য থুরিনজিয়ায় উগ্র দক্ষিণপন্থী দল ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ বা এএফডি (AfD)-র ঐতিহাসিক জয় দেশটির রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ভূকম্পন তৈরি করেছে। বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো কট্টর দক্ষিণপন্থী দল জার্মানির কোনো প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রথম স্থান অধিকার করল, যা গোটা ইউরোপের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় বিপদের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফলের নেপথ্যের মূল কারণগুলি একনজরে:

  • জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অভিবাসন নীতি: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল একটি রাজ্যের ক্ষমতার লড়াই নয়; বরং অর্থনৈতিক বৈষম্য, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ এবং বার্লিনের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ। চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ব্যর্থতা ভোটারদের বাধ্য করেছে উগ্রপন্থী শিবিরের দিকে ঝুঁকতে।

  • সরকার গঠনে বাধা ও এএফডি-র ভেটো ক্ষমতা: অন্যান্য রাজনৈতিক দল আগেই এএফডি-র সঙ্গে জোট বাঁধবে না বলে ঘোষণা করায় তাদের পক্ষে সরকার গঠন কঠিন হতে পারে। তবে পার্লামেন্টের এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসন দখল করায় বিচারক নিয়োগ বা সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভেটো দেওয়ার অভূতপূর্ব ক্ষমতা চলে এসেছে তাদের হাতে। ফলে কোনো আইন পাস করাতে গেলে তাদের এড়ানো একপ্রকার অসম্ভব।

গণতন্ত্র ও মধ্যপন্থী স্থিতিশীলতার দুর্গে এই উগ্র দক্ষিণপন্থী ঝড়ের তীব্রতা আগামী দিনে গোটা ইউরোপের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *