একসঙ্গে তিন প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়! ইন্দোনেশিয়ার আকাশে-পাতাল কি মহাবিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

গত কয়েক দিন ধরে যেন একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। একসঙ্গে একাধিক আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, তীব্র দাবানল এবং তার রেশ কাটতে না কাটতেই পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প—প্রকৃতির এই ত্রিমুখী তাণ্ডবে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে দেশজুড়ে।

প্রথমেই বিপর্যয়ের শুরু হয় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে। ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালীর বিখ্যাত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটি ফের প্রবলবেগে সক্রিয় হয়ে ওঠে। দফায় দফায় চলা এই অগ্ন্যুৎপাতের জেরে তৈরি হওয়া বিশাল ছাইয়ের মেঘ আকাশের বিরাট অংশ ঢেকে ফেলে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিমান চলাচলের ওপর। বহু বিমানবন্দরে পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং নিরাপত্তার খাতিরে তিন হাজারের বেশি বিমান বাতিল বা তাদের পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। শুধু আনাক ক্রাকাতাউ নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একাধিক আগ্নেয়গিরিতে অস্বাভাবিক সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।

এই আগ্নেয়গিরির উত্তাপ না কমতেই নতুন আতঙ্ক হিসেবে হাজির হয় ভয়াবহ দাবানল। তীব্র গরম, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং চরম খরার জেরে ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও পিটল্যান্ডে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দাবানল থেকে নির্গত ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত ধোঁয়াশা কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয়, প্রতিবেশী দেশগুলিতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

আর এই সবকিছুর মধ্যেই ঘটে চলেছে একের পর এক ভূমিকম্প। গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার বান্দা সাগরে (Banda Sea) ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই রাত পেরিয়ে জাভা সাগর (Java Sea) এলাকাতেও আরও একটি শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়। এই ভূমিকম্পগুলির উৎসস্থল অনেক গভীরে থাকায় আপাতত কোনো সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়নি, যা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে প্রশাসনকে।

পরপর ঘটে চলা এই সমস্ত ঘটনাকে বিশেষজ্ঞরা অবশ্য একই সূত্রে বাঁধতে নারাজ। তাঁদের মতে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, দাবানল এবং ভূমিকম্প—প্রতিটি প্রাকৃতিক ঘটনার নেপথ্যেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভূ-প্রাকৃতিক কারণ। তা সত্ত্বেও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রকৃতির এমন ত্রিমুখী রূপের জেরে রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছে ইন্দোনেশিয়াসহ গোটা বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *