বিনা জ্বর বা উপসর্গ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধছে ডেঙ্গু! চিকিৎসকদের এই সতর্কবার্তায় ঘুম উড়ল সবার

বর্ষাকাল মানেই ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি ও কাশির পাশাপাশি মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর আতঙ্ক। সাধারণ মানুষের ধারণা অনুযায়ী, ডেঙ্গু মানেই প্রচণ্ড উচ্চ তাপমাত্রা বা জ্বর, তীব্র মাথা ব্যথা এবং শরীরে অসম্ভব যন্ত্রণা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এবার এমন এক ধরনের ডেঙ্গু সামনে আসছে যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে কোনো জ্বরই থাকে না! চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যাটিপিক্যাল ডেঙ্গু’ (Atypical Dengue), যা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
জ্বর ছাড়াই যেভাবে হানা দেয় ডেঙ্গু: যথাথার্থ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. রেশু আগরওয়াল জানিয়েছেন, শুধু জ্বর নেই বলেই ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক রোগকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে যেখানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, সেখানে হঠাৎ করে অতিরিক্ত দুর্বলতা, গায়ে ব্যথা বা পেটের সমস্যা দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গগুলি অত্যন্ত হালকা হয় অথবা একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।
অ্যাটিপিক্যাল ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণগুলি কী কী? এই বিশেষ ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পেট সংক্রান্ত সমস্যাগুলো বেশি মারাত্মক আকার ধারণ করে।
-
ঘন ঘন বমি ভাব, ডায়রিয়া, তীব্র পেট ব্যথা কিংবা বদহজম।
-
অতিরিক্ত ক্লান্তি, সারা শরীরে ও চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও জয়েন্টে যন্ত্রণা।
-
খিদে কমে যাওয়া এবং ত্বকে ছোট ছোট লালচে ছোপ বা র্যাশ দেখা দেওয়া। যদি কারো ক্ষেত্রে ক্রমাগত পেট ব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট কিংবা নাক ও মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়, তবে তা সাধারণ আবহাওয়া পরিবর্তনের সমস্যা বলে এড়িয়ে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা: বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ে আরেকটি বড় ভুল ধারণা হলো—জ্বর কমে গেলেই বুঝি বিপদ কেটে গেল। অথচ অনেক রোগীর ক্ষেত্রে আসল বিপদ শুরু হয় ঠিক জ্বর নামার পরেই। এই সময়ে শরীরে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শুধুমাত্র প্লেটলেট কাউন্টের ওপর নির্ভর না করে, যেকোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সঠিক সময়ে রোগীর ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা অত্যন্ত জরুরি।