সংশোধন বিল নিয়ে বড় চক্রান্ত? মোদি সরকারকে তুলোধোনা করে বিস্ফোরক জয়রাম রমেশ!

সংসদের মনসুন সেশন বা বর্ষাকালীন অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত না করে তা খোলা রাখার ঘটনায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং একটি বিশেষ কৌশলগত কারণে অধিবেশন শেষ করতে দীর্ঘ বিলম্ব করছে কেন্দ্র।

২৯ দিনের রেকর্ড গ্যাপ ও নতুন বিতর্ক: জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, সংসদ অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হওয়া এবং সেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হওয়ার মধ্যবর্তী ব্যবধান এবার প্রায় ২৯ দিনে গিয়ে ঠেকেছে। এর আগে ২০১৫ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশনে ২৮ দিনের ব্যবধানের যে রেকর্ড তৈরি হয়েছিল, মোদি সরকার এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে। সাধারণত এই দুই ঘটনার মধ্যে মাত্র তিন থেকে চার দিনের ফারাক থাকে বলে জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধন এবং অমিত শাহের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি নিশানা করে কংগ্রেস নেতা দাবি করেছেন যে, সংবিধান সংশোধন বিল পাস করানোর জন্য লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগম্য জোগাড় করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যা নেই। আর সেই ঘাটতি ঢাকতেই বিভিন্ন দলকে ভয় দেখানো, প্রলোভন ও হুমকি দিয়ে তাদের অবস্থান বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৭ এপ্রিলের ভোটাভুটিতে যে দলগুলি বিলের বিরোধিতা করেছিল, তাদের মধ্যেও বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রমেশ।

তিনি আরও দাবি করেন যে, সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অতি আত্মবিশ্বাসের কারণেই সরকার এই পথ বেছে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, অধিবেশন খোলা রেখে বিরোধী দলগুলোর ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ বা সাইকোলজিক্যাল ট্যাকটিক্স প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।

ডিমিলিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন: সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিমিলিটেশন প্রস্তাব প্রসঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা বজায় রাখার অভিযোগ তুলেছেন জয়রাম রমেশ। তাঁর প্রশ্ন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য কেন কোনো সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হলো না? চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই বিরোধীরা এই ধরনের বৈঠকের দাবি জানিয়ে এলেও সরকার তাতে কান দেয়নি বলে অভিযোগ। দেশের মূল ভিত্তির সঙ্গে জড়িত এই বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে বৃহত্তর ঐকমত্য গঠনের মাধ্যমেই কাজ করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন এই কংগ্রেস নেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *