মুকেশ আম্বানি থেকে গৌতম আদানি—বাংলায় মেগা বিনিয়োগের সুনামি! মুম্বই সফরে বড় মাস্টারস্ট্রোক মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের শিল্পখাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগ টানতে এবার সরাসরি মুম্বই পাড়ি দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গণেশ উৎসবের পরেই রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এবং তাঁর পুত্র অনন্ত আম্বানির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর মাত্র চার মাসের মধ্যেই রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আদানি ও আম্বানিদের মেগা প্রজেক্ট: দিল্লির ব্রিকস সামিটের পাশাপাশি মুম্বই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর রাজ্যে আসছেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। নিউটাউনে আদানি গ্রুপের প্রস্তাবিত বিশাল স্বাস্থ্য প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি, আগরওয়াল গোষ্ঠী আগামী তিন বছরে রাজ্যে প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে। সল্টলেকের একটি অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই সংস্থার শাখা ১১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫০ করা হবে, যার ফলে বিপুল কর্মসংস্থান হবে। পুরুলিয়ায় সোলার প্ল্যান্ট তৈরির জন্য প্রায় ১০০০ একর জমি কিনেছে ওই গোষ্ঠী, যার ভূমিপুজোতেও নিজে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ: এদিনও আগের সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একসময়ে ‘সিন্ডিকেট ও কাটমানি’-র দৌলতেই বাংলার শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই কালিমালিপ্ত ভাবমূর্তি বদলেই বর্তমান সরকার নতুন করে লগ্নি টানছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে আমূলের আইসক্রিম কারখানা তৈরির জন্য জমি চিহ্নিতকরণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
পুজোর আগেই বড় উপহার: শিল্পের গতি বাড়াতে পুজোর আগেই মোট ৩৩টি সংস্থাকে সরকারিভাবে জমি হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক প্রকল্পের কাজও খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্পোরেট জায়ান্টদের বাংলায় ডেকে এনে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ভিত্তিকে চাঙ্গা করাই এখন বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।