‘কলকাতার নেতারাই নন্দীগ্রাম ডুবিয়েছে!’ উপনির্বাচনের আগে কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্যে অস্বস্তিতে তৃণমূল

আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এর মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নন্দীগ্রামে দলের বর্তমান বেহাল অবস্থার জন্য নাম না করে দলেরই শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কলকাতার নেতাদের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। কুণালের দাবি, অতীতে তিনি দায়িত্ব নিয়ে ভালো ফল করলেও, তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরেই সেখানে সংগঠনের এই করুণ দশা হয়েছে।
এদিন কুণাল ঘোষ বলেন, নন্দীগ্রামের খারাপ অবস্থার জন্য কলকাতার লোকেরাই সম্পূর্ণ দায়ী। তিনি যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন জেলা পরিষদে ভালো ফল হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে বিনা নোটিসে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও তন্ময় ঘোষের মতো ‘বিজ্ঞ লোকেদের’ সেখানে পাঠানো হয়। তাঁর দাবি, জেলা পরিষদে যে ১০ হাজারের বেশি লিড পাওয়া গিয়েছিল, তা কোনোভাবেই ভুয়া ভোট ছিল না, কারণ সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর শক্তপোক্ত সংগঠন ছিল। আইপ্যাক সহ যাঁদের পাঠানো হয়েছিল, এই ব্যর্থতার দায় তাঁদেরই নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন যে, অনেক তথ্য তাঁর কাছে তোলা রয়েছে এবং সঠিক সময় এলে তিনি তা প্রকাশ্যে আনবেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হতে হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের বিধানসভাতেও তৃণমূলের পবিত্র করকে সহজেই পরাজিত করেন শুভেন্দু। এর জেরে বর্তমানে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সংগঠনের অবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর নিয়মমাফিক নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে শুভেন্দু পদত্যাগ করায় সেখানে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যেই বিজেপি এই আসনে রেকর্ড মার্জিনে জয়ের হুঙ্কার দিয়েছে, অথচ এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়নি।