মমতা দাঁড়ালেই প্রার্থী দেবে না ঋতব্রত শিবির! উপনির্বাচনের আগে কোন মাস্টারস্ট্রোকের ছক কষছে তৃণমূলের দুই পক্ষ?

আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান। তবে সমস্ত জল্পনাকে ছাপিয়ে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করার দাবি তুলল খোদ বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির। শুধু দাবি তোলা নয়, মমতা যদি নন্দীগ্রামে লড়তে নামেন, তবে তাঁর জন্য নিজেদের প্রার্থী পদ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নিতে রাজি বলে জানিয়ে দিয়েছে ঋতব্রত শিবির। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত? এর নেপথ্যে শুধুই মমতার প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন নাকি অন্য কোনো গভীর সমীকরণ কাজ করছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

নন্দীগ্রামে মমতাকে নিয়ে কী পরিকল্পনা বিদ্রোহী শিবিরের?
বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম নেতা আখরুজ্জামান স্পষ্ট জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগের হারের আক্ষেপ বা জেতার স্বপ্ন এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে। তাই তিনি যদি ফের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী হন, তবে তাঁর জয়ের পথ প্রশস্ত করতে তাঁরা নিজেদের প্রার্থী দেবেন না। অন্যদিকে, মদন মিত্রও মমতাকে নন্দীগ্রামে লড়াই করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দাবি করেছেন যে, তিনি সমস্ত শক্তি দিয়ে ময়দানে নামলে ২০২১ সালের নির্বাচনে হার বা ভোটচুক্তির তত্ত্বের সত্যতা আবারও সামনে চলে আসবে।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগে সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং আসল ‘জোড়াফুল প্রতীক’ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এখনও নির্বাচন কমিশনের সিলমোহর পড়েনি। এই বিষয়ে শনিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দুই শিবিরের পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে উপনির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ।

এই কৌশলের পেছনে আসল রাজনৈতিক হিসেব কী?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে নিজেদের রণকৌশল সাজিয়ে রাখছে ঋতব্রত শিবির। যদি প্রতীক সংক্রান্ত রায় অনুকূলে না যায়, তবে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে নির্দল প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছে তারা। কিন্তু সেই প্রার্থী যদি বড় ব্যবধানে হেরে যান, তবে বিদ্রোহী নেতাদের নিজস্ব জনপ্রিয়তা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, মমতাপন্থী তৃণমূল শিবিরও নন্দীগ্রামের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে। কারণ, এই আসনে শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত প্রভাব এবং হিন্দু ভোটের আধিক্যের কথা মাথায় রেখে অনেকেই প্রার্থী হতে পিছপা হচ্ছেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র করও এবার আর সেখানে দাঁড়াতে রাজি নন। ঠিক এই জায়গাতেই মমতাকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মাস্টারস্ট্রোক দিতে চাইছে ঋতব্রত শিবির। বিরোধীদের তৈরি হওয়া এই নতুন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী পদক্ষেপ করেন এবং নির্বাচন কমিশন প্রতীক নিয়ে কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজনৈতিক মহল।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *