ভয়ঙ্কর মারধর! মণিপুরী সংগীতশিল্পীর ১৫টি হাড় ভেঙে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস এইমস-এর রিপোর্টে

দিল্লিতে মণিপুরী সংগীতশিল্পী চংথাম বিক্রম সিংয়ের রহস্যমৃত্যু এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবার উঠে এল এক ভয়ংকর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। দিল্লির এইমস (AIIMS Delhi)-এর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে সংগীতশিল্পীর শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের ক্ষত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কথা স্পষ্টভাবে ফাঁস হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, যত্রতত্র ভারী বস্তু দিয়ে মারাত্মক আঘাত এবং সিুত্রপাত হওয়া অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ফলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে এক নাবালকসহ মোট আটজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত এফআইআর (FIR) অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিল্লির আশ্রম এলাকায় নিজের বাড়ির বাইরে রাস্তায় গণ্ডগোল ও চিৎকার করছিলেন কয়েকজন যুবক। ৫৪ বছর বয়সি চংথাম বিক্রম সিং তাঁদের শান্ত করতে এবং ওই গোলমাল থামাতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই কারণেই তাঁর ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। বিক্রম সিংয়ের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তিও ছিল যারা এর আগেও একাধিকবার তাঁর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল।
পরিস্থিতি এতটাই হিংসাত্মক হয়ে ওঠে যে অভিযুক্তরা সটান বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং প্রাণ বাঁচাতে তিন তলা পর্যন্ত নিহতের পিছু ধাওয়া করে। এরপর ঘরে ঢুকে তাঁকে বেধড়ক লাথি-ঘুষি ও কিল চড় মেরে চরম নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার একটি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে, যেখানে অভিযুক্তদের নৃশংসতা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য স্পষ্ট ধরা পড়েছে। হামলার পর গুরুতর জখম অবস্থায় বিক্রম সিংকে প্রথমে হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এইমস-এর ময়নাতদন্ত রিপোর্টে কী উঠে এল?
দিল্লির এইমস হাসপাতালের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের করা অটোস্পসি বা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিক্রম সিংয়ের মৃত্যুর মূল কারণ ছিল অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, যার নেপথ্যে ছিল তাঁর বুক এবং পেটে হওয়া মারাত্মক জখম। রিপোর্টে বলা হয়েছে:
নিহতের শরীরের মোট ১৫টি হাড় বা পসলিতে ফ্র্যাকচার বা ফাটল পাওয়া গেছে।
তাঁর শরীরের বাঁ দিকে প্রথম থেকে একাদশ এবং ডান দিকে ষষ্ঠ থেকে নবম পর্যন্ত একাধিক পসিবল রিভ বা হাড় ভেঙে চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
ওই ভাঙা হাড়ের আশেপাশে প্রচুর পরিমাণে রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন মিলেছে।
এছাড়া তাঁর মাথা, মুখ, দুই হাত, বুক, পেট, পিঠ এবং পায়ে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন, কালশিটে পড়া দাগ ও অভ্যন্তরীণ গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে একটিমাত্র পসিবল ফ্র্যাকচার সরাসরি মৃত্যুর কারণ হয় না। কিন্তু যখন অত্যন্ত জোরালো আঘাতে পরপর একাধিক পসিবল হাড় ভেঙে গিয়ে ফুসফুস, হৃদপিণ্ড কিংবা ধমনীর মতো সংবেদনশীল অঙ্গগুলিতে আঘাত করে, তখন শরীরের ভেতরে ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিক্রম সিংয়ের ক্ষেত্রেও অবিকল তেমনটাই ঘটেছিল। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতের ভিসেরা স্যাম্পল বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির নমুনাও রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ আরও জোরদার করেছে।