ফরাক্কার ১০৯টি গেট খুলতেই প্লাবিত মালদা! পরিস্থিতি সামলাতে এবার কি সরাসরি ময়দানে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী?

হু হু করে বেড়েই চলেছে গঙ্গার জলস্তর। যার জেরে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মালদা জেলার বন্যা পরিস্থিতি। পরিস্থিতির সামাল দিতে এবং জলের চাপ কমাতে ফরাক্কা ব্যারাজের সমস্ত অর্থাৎ ১০৯টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। এর জেরে কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের একাধিক নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভূতনি চরে, যেখানে গঙ্গার জলবন্দি হয়ে পড়েছে স্বয়ং থানাও।
জলের তলায় ভূতনি থানা, চলছে জলবন্দি লড়াই
গঙ্গার আগ্রাসী রূপ শুধু সাধারণ মানুষকে নয়, বিপাকে ফেলেছে আইনরক্ষকদেরও। ভূতনি থানার একতলা পুরো জলের তলায় চলে গেছে। বাধ্য হয়ে থানার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ফুলহর নদীর ব্রিজের পাশের ক্যাম্পে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এত প্রতিকূলতার মাঝেও থেমে নেই পুলিশি পরিষেবা। থানার দোতলায় বসে, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। খাকি উর্দি পরেই তাঁরা কোমরজলে নেমে দুর্গতদের হাতে পানীয় জল ও খাবার তুলে দিচ্ছেন। পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, চরম বিপদের মধ্যেও পুলিশকর্মীরা প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের পাশে রয়েছেন।
বাঁধ কেটে জল নিষ্কাশনের চেষ্টা ও বর্তমান পরিস্থিতি
উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয়। এলাকাবাসীর দাবিমতো প্রশাসনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ চণ্ডীপুর বাঁধের প্রায় ১০ মিটার অংশ কেটে দেওয়া হয়েছিল, যা জলের স্রোতে এখন প্রায় ১০০ মিটারে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে তীব্র বেগে জল ফুলহরের দিকে বেরিয়ে যাওয়ায় উত্তর চণ্ডীপুরের জমে থাকা জল কিছুটা কমেছে। সেচ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে গঙ্গা বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার এবং ফুলহর নদীর জলও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে বিহার বা উত্তরপ্রদেশে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, মালদার এই ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিন খতিয়ে দেখতে খুব শীঘ্রই জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু জানিয়েছেন, নদীর জল কমলেই ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। আগামী রবিবারের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশার বুক বেঁধে রয়েছেন সর্বস্বহারা ভূতনিবাসী।