জিআই ট্যাগ পেতেই তাক লাগাল কালনার নতুনগ্রাম! মুম্বই থেকে কলকাতা—মণ্ডপ মাতাতে আসছে কোটি টাকার কাঠের পুতুল!

পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমার অন্তর্গত নতুনগ্রাম—নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি রঙিন কাঠের পুতুলের ছবি। রাজ্যজুড়ে কাষ্ঠশিল্পের জন্য পরিচিত এই গ্রামের অলিতে-গলিতে এখন শুধুই ব্যস্ততার ছবি। গ্রামটিতে ঢুকলেই শোনা যায় হাতুড়ি-বাটালির ঠুকঠাক শব্দ আর নাকে আসে কাঁচা কাঠের সুবাস। শিল্পীদের জাদুকরী ছোঁয়ায় কাঠের সাধারণ টুকরোই যেন প্রাণ পেয়ে হয়ে উঠছে রাজা-রানি, গৌর-নিতাই, দুর্গা কিংবা নজরকাড়া পেঁচা।

পুজো এলেই তুঙ্গে ব্যস্ততা ও দেদার অর্ডার

দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই নতুনগ্রামের শিল্পীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। পুজোর মণ্ডপ সাজাতে এই গ্রামের কাঠের পুতুলের কদর রয়েছে দেশজুড়ে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি; বরং আসানসোল, কলকাতা থেকে শুরু করে সুদূর মুম্বই থেকেও এসেছে বড় বড় অর্ডারের খাস খতিয়ান। শিল্পী গৌতম ভাস্কর জানান, শুধুমাত্র দুর্গাপুজোর জন্যই তিনি প্রায় দু’লক্ষ টাকার অর্ডার পেয়েছেন, যার একটি বড় অংশ যাবে মুম্বই ও আসানসোলে। মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি পুজোর বাজারে বিক্রির জন্য কলকাতার বিভিন্ন হাটেও পাঠানো হচ্ছে এই শিল্পকর্ম।

জিআই স্বীকৃতিতে ঘুরল ভাগ্যের চাকা

নতুনগ্রামের কাঠশিল্পীদের জন্য এবারের পুজো মরশুমটি আরও বেশি স্পেশাল, কারণ তাঁদের এই ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুল সম্প্রতি পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত জিআই (GI) ট্যাগ। শিল্পীদের মতে, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে তাঁদের তৈরি কাঠের পুতুলের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ও চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে। শিল্পী অর্জুন সূত্রধর উচ্ছ্বসিত হয়ে জানান, স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে তাঁদের কাজের চাপ ও অর্ডারের পরিমাণ দুটোই দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সব মিলিয়ে, গোটা নতুনগ্রামের শিল্পীরা এবছর পুজোর মরশুমে প্রায় এক কোটি টাকার ব্যবসা বা অর্ডারের মুখ দেখতে চলেছেন। দিন-রাত এক করে চলা এই কর্মযজ্ঞে কাঠের গন্ধ আর শিল্পীদের নিপুণ হাতের কাজই যেন কালনার এই গ্রামে পুজোর আগমনী বার্তা ব বয়ে এনেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *