ধস নামার আগেই বেজে উঠবে বিপদের ঘণ্টা! রেললাইনের নীচের গোপন ফাঁকফোকর ধরতে আসছে মেগা প্রযুক্তি!

পাহাড়ের ধস কিংবা মাটির নিচের সুপ্ত বিপদ—কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই থমকে যায় উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ। ফরাক্কা-ধুলিয়ান রুটে ইঁদুরের গর্তের জেরে ট্র্যাক বসে যাওয়ার ঘটনা হোক কিংবা পাহাড়ি এলাকার ভূমিধস, বারবার রেলের পরিকাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে। এই সমস্ত বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সম্ভাব্য বিপদ শনাক্ত করতে এক বিরাট মেগা পরিকল্পনা নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (NFR)।

চোখে না-দেখা বিপদ ধরতে আসছে GPR প্রযুক্তি

প্রথাগত নজরদারির পাশাপাশি এ বার রেললাইনের সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে সর্বাধুনিক ‘গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার’ বা GPR প্রযুক্তি। রেললাইন না খুঁড়েই এই যন্ত্রের সাহায্যে মাটির নিচের ফাটল, ফাঁপা অংশ, আলগা মাটি বা ইঁদুরের তৈরি গর্তের নিখুঁত হদিশ মিলবে। রাডার থেকে পাঠানো উচ্চ-কম্পাঙ্কের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ মাটির বিভিন্ন স্তরের তথ্য কম্পিউটারে ফুটিয়ে তুলবে, যার ফলে মাটির নিচের গোপন দুর্বলতা সহজেই ধরা পড়বে।

২৪ ঘণ্টার ফুট-পেট্রলিং ও বহুমুখী নজরদারি

শুধু প্রযুক্তির ওপর ভরসা না করে মানবীয় নজরদারিও বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা, নদী সংলগ্ন এবং জঙ্গলঘেরা স্পর্শকাতর রুটগুলিতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ফুট-পেট্রলিং চলবে। ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত গ্যাংম্যান ও কর্মীরা সামান্য কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলেই যাতে দ্রুত রিপোর্ট করতে পারেন, তার জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

লক্ষ্য একটাই: ‘ধসের পরে নয়, ধসের আগে’

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না। রাডার বা পেট্রলিংয়ে কোথাও সামান্য বিপদের ইঙ্গিত মিললেই দ্রুত ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ বা সাময়িক চলাচল বন্ধ করে জরুরি মেরামতের কাজ শুরু হবে। ট্রেন চালুর আগে মাটির স্থায়িত্ব ফেরাতে পাথর ও কংক্রিট দিয়ে মজবুত করা হবে ট্র্যাক। হাজার হাজার যাত্রীর যাতায়াত এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষার্থে রেলের এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *