কাঁকসার জঙ্গলে চার নরকঙ্কাল উদ্ধারে চাঞ্চল্য! দু’মাস আগে নিখোঁজ হওয়া একই পরিবারের চার সদস্য কি তবে তাঁরাই?

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসার মলানদিঘির জঙ্গল থেকে একই সঙ্গে চারটি নরকঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার জঙ্গলে পাতা ও ডালপালা কুড়োতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে এই হাড়হিম করা দৃশ্য। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালগুলি উদ্ধার করলেও, এই ঘটনার জেরে গত দু’মাস ধরে নিখোঁজ থাকা একটি পরিবারের খোঁজ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
নিখোঁজ পরিবারের সঙ্গে কঙ্কালের যোগসাজশ?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঠিক এর দু’মাস আগেই পশ্চিম বর্ধমানের বুদবুদ থানার দেবসালা গ্রাম পঞ্চায়েতের পদুমা গ্রামের একটি পুরো পরিবার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। ওই নিখোঁজ পরিবারটিতে ছিলেন সুনীল হেমব্রম, তাঁর স্ত্রী মামনি হেমব্রম, সুনীলের শাশুড়ি লক্ষ্মী হেমব্রম এবং সুনীল-মামনির তিন বছরের ছোট্ট কন্যাসন্তান—যার নামও লক্ষ্মী হেমব্রম। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলির মধ্যে একটি শিশুর, দুটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীর এবং একটি পুরুষের হওয়ায় পুলিশের জোরালো অনুমান, এই দেহাবশেষগুলি ওই নিখোঁজ হেমব্রম পরিবারেরই হতে পারে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (পূর্ব) রাসপ্রীত সিং জানিয়েছেন যে, ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, পরীক্ষার জন্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খোঁজে বৃহস্পতিবার সুনীল হেমব্রমের বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি।
পুরনো শত্রুতা এবং ত্রিকোণ প্রেমের তত্ত্ব
এই রহস্যের পেছনে পুরনো কোনো শত্রুতার যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, সুনীলের বর্তমান স্ত্রী মামনি অতীতে মোংলা হেমব্রম নামের এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে সুনীল তাঁকে বিয়ে করেন এবং মোংলা আবার সুনীলের প্রাক্তন স্ত্রীকে বিয়ে করে নেন। এই বন্ধুত্বের মধ্যে স্ত্রীর অদলবদল এবং পুরনো সম্পর্কের টানাপোড়েন এই নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে মোংলা হেমব্রম ও তাঁর পরিবারের কাউকেও এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
জঙ্গল জুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ
একের পর এক দেহ বা কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় কাঁকসার এই জঙ্গল এলাকাটিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ভীতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জঙ্গলের দুর্গমতা ও নির্জনতার সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক কাজকর্ম বাড়তে শুরু করেছে। এলাকার মানুষের দাবি, শুধু ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতা নয়, বরং অপরাধ রোধ করতে জঙ্গলের গভীরে নিয়মিত পুলিশি টহল এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হোক।