এক দশকে কত কি ঘটে গেল! গ্রামীণ কল্যাণের বহুল আলোচিত ৬৬৬ কোটি টাকার কর মামলা নিয়ে আদালতের বিরাট রায়!

নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’-এর বিরুদ্ধে চলা দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে এক বড় মোড় এল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার আয়কর মামলার রিট খারিজ করে দিয়ে নতুন রায় ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
মামলার নেপথ্যের গল্প ও দ্বন্দ্ব
আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে, ২০১২-১৩ থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ অর্থবছরের আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে এনবিআর। মূলত ২০০৪ সালে গ্রামীণ টেলিকমকে দেওয়া ৫৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার ঋণ এবং তার লভ্যাংশ থেকে আসা আয়কে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। এনবিআরের দাবি অনুযায়ী এই অর্থ করযোগ্য হলেও, গ্রামীণ কল্যাণ তা মানতে নারাজ ছিল। তাদের যুক্তি ছিল, লভ্যাংশ দেওয়ার সময়ই উৎসে ১৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়েছে, ফলে অতিরিক্ত কর চাপানো অযৌক্তিক। এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দায়ের করে প্রতিষ্ঠানটি।
আদালতের নতুন রায় ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দফায় দফায় আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মামলাটি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে আসে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত গ্রামীণ কল্যাণের রিটগুলির রুল খারিজ করে রায় দেন। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সামাদ আজাদ জানান, এখন যথাযথ ডিমান্ড নোটিশ ইস্যু করে ২০১৭ সাল থেকে ফাঁকি দেওয়া এই রাজস্ব আদায় করতে পারবে সরকার। অন্যদিকে, গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন যে, পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর তারা উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করবেন। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আসা এই আইনি রায় দেশের অর্থনীতি ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।