দিল্লিতে মণিপুরী সংগীতশিল্পীকে নৃশংসভাবে খুন! স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধীর মারাত্মক অভিযোগে তোলপাড়!

দিল্লির বুকে মণিপুরের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী চংথম বিক্রম সিংয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ড. আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে আয়োজিত ওই শিল্পীর স্মরণসভায় যোগ দিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। বিক্রমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে তাঁরা অবশ্যই ন্যায়বিচার ছিনিয়ে আনবেন।
কী ঘটেছিল সেদিন?
জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাতে দিল্লির মাটিতেই মণিপুরের ৫৪ বছর বয়সী জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী চোংথাম বিক্রম সিংহের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, শুধুমাত্র বাড়ির সামনে শব্দ কমানোর অনুরোধ জানানোর অপরাধেই তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছিল। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ২০০৪ সাল থেকে দিল্লিতে থেকে সঙ্গীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই প্রতিভাবান শিল্পীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ
স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “একজন তরুণকে হত্যা করা হয়েছে—এটাই এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।” পাশাপাশি ক্ষমতার অহংকার ও হিংসার রাজনীতি নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে রাহুল বলেন, বর্তমানে এমন এক মানসিকতা তৈরি হয়েছে যেখানে ক্ষমতাবান হলেই যেকোনো হিংস্র বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা যায় বলে মনে করা হয়। এই ধরনের প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিক্রমের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, তাঁরা কোনো অবস্থাতেই হিংসার কাছে ভীত বা নত হবেন না এবং ন্যায়বিচার আদায় করেই ছাড়বেন। এই ঘটনার পর থেকেই দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উত্তর-পূর্বের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা।