আইফোন কেনার কথা ভাবছেন? Pro নাকি Pro Max—১৫ হাজার টাকা বাঁচিয়ে কোনটা কেনা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে?

আপনিও কি বাজারে নতুন কোনো প্রিমিয়াম আইফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন? অ্যাপেল প্রেমীদের মনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো—আইফোন ১৮ প্রো (iPhone 18 Pro) নাকি আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স (iPhone 18 Pro Max), কোন মডেলটি আপনার জন্য সেরা হবে? এই দুই ফোনই প্রায় একই ধরনের দুর্দান্ত প্রসেসর এবং ক্যামেরা সিস্টেম নিয়ে বাজারে এলেও, এদের মধ্যে কিছু স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে যা আপনার সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য।
স্ক্রিন ও ডিজাইনের তুলনামূলক পার্থক্য
আইফোন ১৮ প্রো মডেলে দেওয়া হয়েছে ৬.৩ ইঞ্চির সুপার রেটিনা XDR OLED ডিসপ্লে, অন্যদিকে প্রো ম্যাক্স মডেলে রয়েছে আরও বড় ৬.৯ ইঞ্চির বিশাল স্ক্রিন। ওজনের দিক থেকেও প্রো মডেলটি তুলনামূলক হালকা (২১১ গ্রাম), যেখানে প্রো ম্যাক্সের ওজন ২৪৯ গ্রাম। আপনি যদি এক হাতে ফোন ব্যবহার করতে ভালোবাসেন, তবে প্রো মডেলটি আপনার হাতের জন্য বেশি আরামদায়ক হবে। আর যদি বড় স্ক্রিনে গেম খেলা বা সিনেমা দেখার নেশা থাকে, তবে প্রো ম্যাক্স বেছে নিতে পারেন।
ক্যামেরায় কি কোনো ফারাক আছে?
সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, ছবি তোলা বা ভিডিও করার দিক থেকে দুটি মডেলের মধ্যে কোনো বড় তফাত নেই। দুটিতেই রয়েছে শক্তিশালী ৪৮ মেগাপিক্সেল প্রো ফিউশন ক্যামেরা সিস্টেম এবং সেলফির জন্য ১৮ মেগাপিক্সেল সেন্টার স্টেজের মতো আধুনিক ফিচার। ফলে শুধু ক্যামেরার কথা ভেবে বাড়তি টাকা খরচ করে প্রো ম্যাক্স কেনার কোনো প্রয়োজন নেই।
ব্যাটারি লাইফ এবং দামের ফারাক
ব্যাটারির পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে প্রো ম্যাক্স অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। প্রো মডেলে যেখানে ৩৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক পাওয়া যায়, সেখানে প্রো ম্যাক্স মডেলটি ৪৩ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।
এবার আসা যাক দামের প্রসঙ্গে। ভারতে আইফোন ১৮ প্রো-এর প্রাথমিক দাম শুরু হচ্ছে ১,৬৪,৯০০ টাকা থেকে, অন্যদিকে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু ১,৭৯,৯০০ টাকা থেকে। অর্থাৎ, এই দুই ফোনের বেস মডেলের দামের মধ্যে প্রায় ১৫,০০০ টাকার পার্থক্য রয়েছে। আপনার যদি লম্বা ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং বড় স্ক্রিন প্রধান অগ্রাধিকার হয়, তবে প্রো ম্যাক্স আপনার জন্য উপযুক্ত। আর কম ওজনে সেরা পারফরম্যান্স চাইলে আইফোন ১৮ প্রো-ই আপনার জন্য সবচেয়ে লাভজনক ও বুদ্ধিমানের পছন্দ হবে।