‘বাঙালি মাছ খাবে না কে বলেছে!’ কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাটে বসে মাছের কালিয়া দিয়ে জম্পেশ ভুরিভোজ মুখ্যমন্ত্রীর!

‘বাঙালি মাছ খাবে না…’ বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্রনাথ শাস্ত্রীর সম্প্রতি দুর্গাপুজোয় আমিষ ও নিরামিষ খাওয়া প্রসঙ্গে করা মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছিল। সেই সময় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করে জল ঢালার চেষ্টা করলেও, এবার কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্যতিথিতে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে একেবারে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মন্দির চত্বরে বসে সপার্ষদ আমিষ প্রসাদ গ্রহণ করে আপামর বাঙালির আমিষ-নিরামিষ প্রশ্নে সরকারের অবস্থান ও বাঙালির খাদ্যাভ্যাসকে স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
কালীঘাটে জমজমাট আমিষ ভুরিভোজ
এদিন কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। দেবীকে বরণ করার পাশাপাশি অঞ্জলিও দেন তিনি। এরপর মন্দির চত্বরে বসেই পুরোহিতদের দেওয়া দুপুরের ভোগ-প্রসাদ গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গীরা। সেই বিশেষ ভোগে নিমকি, প্যারা, পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা থেকে শুরু করে বাটা মাছ ভাজা, মাছের মাথা, মাছের কালিয়া (ল্যাজার পিস), পায়েস—সবকিছুই ছিল। তবে ভোগে চিংড়ি মাছ থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী তা এড়িয়ে চলেন।
বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ও শুভেন্দুর অবস্থান
পুজো দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাগেশ্বর বাবার বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, ‘‘একজন সন্ত, একজন বাবা, তাঁর মত প্রকাশ করেছেন, যে গ্রহণ করার করবেন, যাঁর করার নয় করবেন না।’’ নিজের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি যেমন অষ্টমীর দিন পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে সাত্ত্বিক আহার করেন, কিংবা কার্তিক ও দামোদর মাসে নিয়ম মেনে চলেন; তেমনই একজন বাঙালি হিসেবে দেবীকে নিবেদিত মাছের ভোগ এবং পাঁঠাবলির প্রসাদও আনন্দের সঙ্গেই গ্রহণ করেন।
এদিকে, এই ইস্যুতে ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি নিয়ে যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে তার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ কমিশনারকে স্পষ্ট নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। বিধানসভা থেকে কালীঘাট—সব মিলিয়ে কৌশিকী অমাবস্যার দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে বাঙালি আবেগ ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।