সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সাক্ষীর বয়ান—কোথায় বড় ভুল হতেই বেকসুর খালাস পেলেন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আসামিরা?

আইনি লড়াইয়ে তথ্যের মারপ্যাঁচ এবং পুলিশি তদন্তের মারাত্মক ত্রুটি কীভাবে একটি খুন বা অপরাধের মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক কয়েকটি রায়ে। গত ৯ দিনের ব্যবধানে দেশের উচ্চ আদালতগুলি থেকে ৪টি আলোচিত হত্যা মামলায় মোট ৯ জন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন বা ফাঁসির সাজা পাওয়ার পরও কীভাবে উচ্চ আদালত থেকে এই মুক্তি মিলল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি চর্চা।
কোন যুক্তিতে মিলল মুক্তি?
আদালতগুলির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র অনুমানের বা সন্দেহের বশে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না। আইনের চোখে অপরাধ প্রমাণ করার জন্য নিখুঁত চেইন অফ সারকামস্ট্যান্স বা তথ্যপ্রমাণের শৃঙ্খল থাকা আবশ্যক। কিন্তু সাম্প্রতিক এই মামলাগুলিতে দেখা গেছে যে, তদন্তকারী সংস্থার গাফিলতির কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লোপাট হয়েছে। কোথাও সাক্ষীদের বয়ানে চরম অসঙ্গতি মিলেছে, কোথাও আবার অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র বা রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা যায়নি। এছাড়া সিিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং কল ডিটেইলস বা ডিজিটাল প্রমাণের ক্ষেত্রে আইনসম্মত প্রক্রিয়া (যেমন ৬৪বি সার্টিফিকেট) অনুসরণ না করায় সেগুলি আদালতে টেকেলি।
আলোচিত কয়েকটি মামলা একনজরে:
-
বিহারের নাতিদীর্ঘ জলবিবাদ মামলা: নালার জল গড়ানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ট্রায়াল কোর্ট এবং হাইকোর্ট সাজা বহাল রাখলেও, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ধরা পড়ে পুলিশি তদন্তের ফাঁক। ঘটনার পর আহতকে হাসপাতালে না নিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া, চিকিৎসকের রিপোর্ট এবং সাক্ষীদের পরস্পরবিরোধী বয়ানের জেরে দুই অভিযুক্তকে মুক্তি দেয় শীর্ষ আদালত।
-
হায়দ্রাবাদের অপহরণ ও খুন: এক ব্যক্তির অপহরণ ও ফ্রিজের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত এক অভিযুক্তকে সুপ্রিম কোর্ট খালাস দেয়। কারণ হিসেবে আদালত জানায়, টাকা লেনদেন এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঠিক তদন্ত হয়নি, এবং সিিসিটিভি বা কল রেকর্ডের ডিজিটাল প্রমাণে আইনি ত্রুটি ছিল।
-
আম্বালার নাবালক হত্যা মামলা: ২০০৭ সালের এই লোমহর্ষক ঘটনায় দীর্ঘ ১৬ বছর কারাবাসের পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে মুক্তি পান অভিযুক্ত। আদালত জানায়, ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা বিশ্বাসযোগ্য শেষবার একসঙ্গে দেখা যাওয়ার (Last Seen) তথ্য ছিল না।
-
মুম্বইয়ের ভিলে পার্লে কাণ্ড: ২০১৬ সালের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ফিজিওথেরাপিস্ট তরুণীকে ধর্ষণ ও খুনের দায়ে নিম্ন আদালত ফাঁসির সাজা দিলেও, দীর্ঘ ৭ বছর আইনি লড়ায়ের পর বোম্বে হাইকোর্ট সেই রায় উল্টে দিয়ে অভিযুক্তকে খালাস করে দেয়।
পুলিশের সামান্য অসাবধানতা বা তদন্তে ছোট ভুল কীভাবে জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রেও অপরাধীদের আইনি ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেয়, এই সাম্প্রতিক রায়গুলি তারই এক বড় উদাহরণ।