দেশের সবাইকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার বিরাট ঘোষণা ট্রাম্পের! টাকা আসবে কোথা থেকে?

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত মেটাতে ব্যর্থতা সহ অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আগামী নভেম্বর মাসে হতে চলা আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পারফরম্যান্স নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঠিক এমন এক সংকটজনক মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করতে এক নজিরবিহীন ঘোষণা করে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কী এই ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’?
টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত দলের প্রথম মিডটার্ম কনভেনশনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে দেশের প্রতিটি সাবালক নাগরিককে ৫,০০০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা) নগদ অর্থ দেওয়া হবে। এই সুবিশাল অঙ্কের অর্থপ্রদানকে তিনি ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ নামে অভিহিত করেছেন। তাঁর যুক্তি, একটি লাভজনক কোম্পানি যেমন বছরের শেষে শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেয়, তেমনই দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের অংশীদার হবেন সাধারণ মানুষ। বিদেশি পণ্যের উপর চাপানো কড়া শুল্ক এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকেই এই বিশাল তহবিলের সংস্থান করা হবে বলে দাবি তাঁর।
জুড়ে দেওয়া হয়েছে কড়া শর্ত
তবে এই নগদ পুরস্কারের সঙ্গে একটি কড়া শর্তও জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের দেওয়া এই টাকা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারেই খরচ করতে হবে। চীন, কানাডা, জার্মানি কিংবা অন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্রে গিয়ে সেই টাকা ওড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্কিন মুলুকে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২৪ থেকে ২৭ কোটি। ফলে প্রতিটি নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দিতে গেলে সরকারের কোষাগার থেকে ১ থেকে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হবে। কিন্তু এত বিশাল পরিমাণ অর্থের উৎস বা প্রশাসনিক রূপরেখা কী হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্পের ভাষণে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তলানিতে ঠেকা জনপ্রিয়তা বাড়াতেই ট্রাম্প এই ‘টাকার টোপ’ দিয়েছেন। এর আগেও সেনা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ডিভিডেন্ড বা অনুদানের কথা ঘোষণা করা হলেও তার বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির। তাদের দাবি, আমেরিকার জাতীয় ঋণ যেখানে প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এই ধরনের ঘোষণা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এবং ফাঁকা প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন দেখার বিষয়, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে ট্রাম্পের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কতখানি সফল হয়।