খালি পেটে ওয়ার্কআউট করলেই কি দ্রুত ঝরবে চর্বি? অজান্তেই শরীরের বারোটা বাজাচ্ছেন না তো!

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর কি সত্যিই চর্বি ঝরাতে বেশি পারদর্শী হয়, নাকি খালি পেটে জিম করার অভ্যাস ডেকে আনছে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খায় ফিটনেস সচেতন হাজারো মানুষের মনে। অনেকেই মনে করেন, পেটে কিছু না খেয়ে ব্যায়াম করলে শরীরের মেদ দ্রুত গলে যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণার যেমন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে, তেমনই এর অন্ধকার দিকটিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
রাতের দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা উপোসের পর সকালে ঘুম থেকে উঠলে লিভারে জমা থাকা গ্লাইকোজেন বা কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। একই সঙ্গে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রাও থাকে সর্বনিম্ন স্তরে। এই পরিস্থিতিতে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া শক্তি জোগাতে দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে সঞ্চিত ফ্যাটি অ্যাসিডের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। এখানেই অনেকের ভুল ধারণা হয় যে, খালি পেটে ব্যায়াম করাই বুঝি মেদ ঝরানোর সবচেয়ে সহজ পথ।
তবে দিল্লির সাকেতের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের আর্থ্রোস্কোপি অ্যান্ড স্পোর্টস মেডিসিনের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডঃ পুষ্পীন্দর সিং বাজাজ জানাচ্ছেন অন্য কথা। তাঁর মতে, খালি পেটে খুব বেশি তীব্রতার বা হাই-ইনটেনসিটি ব্যায়াম করলে শরীরের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়া সম্ভব হয় না। এর ফলে পেশিতে দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে এবং চোট পাওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীরে কর্টিসোল অর্থাৎ প্রধান স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে অনেকখানি বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি কিংবা থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি ও অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ ছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে কমে গেলে ওয়ার্কআউটের সময় মাথা ঘোরা, বমি ভাব কিংবা সংজ্ঞাহীন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, সকালের দিকে ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকলে একেবারেই খালি পেটে তা না করাই ভালো। শরীর চাঙ্গা রাখতে ব্যায়াম শুরু করার অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ হালকা কিছু খেয়ে নেওয়া উচিত, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাবে এবং বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করবে।