“আর কোথায় কোথায় গিয়ে হারতে চান?” নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন নিয়ে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘোষণা সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিশেষ করে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়া নিয়ে জোর চর্চা চলছে বিভিন্ন মহলে।
এই জল্পনার মাঝেই বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সরাসরি কটাক্ষের সুরে মন্তব্য করেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে কোথায় হেরেছেন এবং ভবিষ্যতে আর কোথায় কোথায় গিয়ে হারতে চান, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ফলাফল ঘিরে যে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, দিলীপের মন্তব্যে সেই স্মৃতিই ফের উস্কে উঠেছে।
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পরই আসরে নামে শাসকশিবির। তৃণমূলের কাউন্সিলর বৈশান্বর চট্টোপাধ্যায় দিলীপকে পাল্টা আক্রমণ করে জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত দল নেবে এবং এই বিষয়ে বিরোধীদের মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, নতুন তৃণমূলের তরফে ঋজু দত্ত জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি প্রার্থী হন, তবে তাঁদের শিবির থেকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী রাখা হবে না।
উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি রাজনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিল। সেই নির্বাচনে এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি এবং কথার লড়াইয়ে পারদ চড়তে শুরু করেছে। কালীঘাট শেষ পর্যন্ত কাকে এই দুই কেন্দ্রে প্রার্থী করে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ময়দানে নামেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।