ওড়িশার জঙ্গলে হঠাৎ ৫টি বিরল ওরাংওটাং! ভিনদেশি এই বনমানুষগুলো কীভাবে এল বালেশ্বরে?

ওড়িশার বালেশ্বর জেলার উদয়পুর-তালসারি এলাকার একটি ঝাউবাং বাগান থেকে আকস্মিকভাবে পাঁচটি বাচ্চা ওরাংওটাং উদ্ধারের ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওরাংওটাংরা ভারতের স্থানীয় বা স্বাভাবিক আদিবাসী প্রাণী নয়; এদের প্রাকৃতিক আবাস মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বোর্নিও এবং সুমাত্রা দ্বীপেই সীমাবদ্ধ। ফলে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের এই ভিনদেশি প্রাণীগুলো কীভাবে ওড়িশার জঙ্গলে এসে পৌঁছাল, তা নিয়ে এখন গভীর রহস্য দানা বেঁধেছে।
উদ্ধারের পরপরই বন বিভাগের একটি বিশেষ দল অত্যন্ত সুরক্ষিত উপায়ে প্রাণীগুলোকে ভুবনেশ্বরের বিখ্যাত নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরিত করে। বর্তমানে তাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। চিড়িয়াখানার পশুচিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া শাবকগুলোর মধ্যে একটি সামান্য জ্বরে আক্রান্ত থাকলেও বাকিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা চলছে।
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের মাধ্যমেই এই বিরল ও বনমানুষের বাচ্চাগুলোকে ভারতে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। আকাশপথ, সমুদ্রপথ নাকি অন্য কোনো অবৈধ উপায়ে তাদের এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শাখা ও বন বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। প্রজাতি হিসেবে এগুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এবং বিশ্বজুড়ে বন উজাড় ও চোরাশিকারের কারণে এদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ায়, এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন পরিবেশবিদ ও তদন্তকারীরা।