মেয়ের জামাইকে বিশ্বাস করতেন না বাবা! শেষমেশ পুলিশের জালে ফাঁসতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য, স্বামীর জেল হতেই অথৈ জলে স্ত্রী!

মেয়ের বিয়ের বিরুদ্ধে থাকা শ্বশুরের সন্দেহ শেষ পর্যন্ত সত্যি প্রমাণিত হলো। নাম ও পরিচয় গোপন করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিল আদালত। বুধবার জলপাইগুড়ির মালবাজার মহকুমা আদালতের বিচারক সঞ্জয় রঞ্জন পাল এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। অর্থ অনাদায়ে অভিযুক্তকে আরও দু’মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের পরই দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও অথৈ জলে পড়েছেন অভিযুক্তের স্ত্রী।

মামলার বিবরণে জানা গিয়েছে, দণ্ডিত যুবকের আসল নাম মেহেদি হাসান। তিনি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। ২০১৪ সালে বাংলাবান্ধা সীমান্ত অতিক্রম করে শিলিগুড়ি হয়ে ডুয়ার্সের চালসা অঞ্চলে চলে আসেন তিনি। সেখানে একটি হোটেলে কাজ করার সময় তিনি নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে ‘দিলীপ বাসফোর’ নাম নেন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় তরুণী নিকিতা বাসফোরের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম থেকেই মেয়ের এই বিয়েতে অমত থাকলেও শ্বশুর অশোক সিদ্ধার্থের মনে জামাইকে নিয়ে প্রবল সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। তাঁরই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে মেহেদির আসল ভিনদেশি পরিচয় প্রকাশ্যে আসে।

বুধবার আদালতে সাজা ঘোষণার পর মেহেদি নিজেই স্বীকার করেন যে পেটের টানেই তিনি ভারতে এসেছিলেন। তবে স্বামীর এই তিন বছরের জেলের সাজা এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ আসার পর থেকেই দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী নিকিতা। পাঁচ ও দুই বছরের দুই সন্তানকে নিয়ে একা কীভাবে সংসার চালাবেন এবং তাদের পিতৃপরিচয় কী হবে, সেই চিন্তায় কার্যত ভেঙে পড়েছেন তিনি। একদিকে শ্বশুরের সন্দেহ আর অন্যদিকে ভিনদেশি পরিচয়ের খেসারত—সব মিলিয়ে এক মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী থাকল ডুয়ার্সের এই পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *