বিয়ে করলেই কি সব স্বাধীনতা শেষ? বৈবাহিক ধর্ষণ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নবাণে কাঁপল আইনি মহল!

সুপ্রিম কোর্টে বহুচর্চিত ম্যাটাল রেপ বা বৈবাহিক ধর্ষণ মামলার শুনানিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও জোরালো প্রশ্ন তুলল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি জॉयমাল্য বাগচি এবং বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, “বিয়ে করার অর্থ কি তবে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া?”
আইনি লড়াই ও দুই মূল প্রশ্ন
ম্যাটেরিয়াল রেপ বা বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার দাবিতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এদিন শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী করুণা নন্দী এবং গোপাল নারায়ণন আদালতের সামনে আইনি দিকগুলি তুলে ধরেন। সমস্ত পক্ষের সওয়াল শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই মামলার বিচারে প্রধানত দুটি মূল বিষয়ের ওপর নজর দেবে: ১. বৈবাহিক ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি আপবাদ (exception) বহাল রেখেও কি অভিযুক্ত স্বামীর বিচার বা মামলা চালানো সম্ভব? ২. আইনের এই আপবাদ বা ছাড় কি আদৌ সাংবিধানিক দিক থেকে বৈধ?
কেন্দ্রের আপত্তি ও আদালতের অবস্থান
এই মামলার শুনানিতে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে পূর্বে দেওয়া affidavits বা হলফনামার প্রসঙ্গও উঠে আসে, যেখানে কেন্দ্র বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধের আওতাভুক্ত করার বিরোধিতা করেছিল। সরকারের যুক্তি ছিল যে, বিবাহ নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একে সরাসরি ‘ধর্ষণ’ বলা অত্যন্ত কঠোর এবং অসংগত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তবে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেও একজন নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার কোনোভাবেই খর্ব হতে পারে না। আগামী মাস থেকেই এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরু করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট, যা ভারতীয় পারিবারিক ও ফৌজদারি আইনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।