মাকে ঠকিয়ে সম্পত্তি দখল! সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে দাঁড় করিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে যা বললেন বিচারপতি, জানলে শিউরে উঠবেন

পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে লোভ কীভাবে মানুষকে অন্ধ করে দেয়, তার এক চরম ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত দেখা গেল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। সম্পত্তি দখল এবং বয়স্ক বাবা-মাকে হেনস্থা করার এক পারিবারিক মামলায় শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী ও আবেগঘন মন্তব্য করেছে। জাল নথিপত্র তৈরি করে বাবা-মায়ের একমাত্র সম্পত্তি জবরদখল করার চেষ্টার অভিযোগে এক সন্তানকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে শীর্ষ আদালত।
সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা ও আদালতের কড়া পদক্ষেপ
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বয়স্ক বাবা-মা নিজেদের কষ্টার্জিত সম্পত্তির একমাত্র মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাদেরই ছেলে এবং পুত্রবধূ নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে যে, একেবারে নিখুঁত পরিকল্পনা করে জাল বা নকল দলিল তৈরি করা হয় এবং জোর করে সেই সম্পত্তির একাংশ নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার চেষ্টা চালান ওই দম্পতি। এমনকি বাবা-মায়ের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে তাদের ঘরছাড়া করার ষড়যন্ত্র করা হয়। বাধ্য হয়ে বয়স্ক বাবা-মা সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই সন্তান ও পুত্রবধূর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং আইনি লড়াই শুরু করেন।
নিম্ন আদালত এবং দিল্লি হাইকোর্ট আগেই বাবা-মায়ের পক্ষে রায় দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল যে ছেলে ও তার স্ত্রী ওই বাড়িতে শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী হিসেবে থাকতে পারেন এবং তাদের অবিলম্বে সেই সম্পত্তি খালি করতে হবে। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই অভিযুক্ত ছেলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
‘মায়ের পা ছুঁয়ে ক্ষমা চাও!’
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সতীশ চন্দ্র সমেত ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত ছেলের সমস্ত আর্জি খারিজ করে দেয়। মামলার কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি বিচারপতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জোরালো সুরে বলেন, সম্পত্তি দখলের লোভ ভুলে ওই যুবকের উচিত অবিলম্বে মায়ের কাছে গিয়ে তাঁর পা ছুঁয়ে ক্ষমা চাওয়া এবং নিজের সমস্ত অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করা।
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, জন্মদাত্রী মায়ের সঙ্গে এমন প্রতারণা ও অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। আইনের পাশাপাশি পারিবারিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পাঠ পড়িয়ে শীর্ষ আদালত যেভাবে এই মামলার ফয়সালা করেছে, তা বর্তমানে আইনি মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।