৩ ট্রাক মলবা আর এক ধাক্কায় ধূলিসাৎ পুরো বিল্ডিং! দিল্লি ট্র্যাজেডিতে চাঞ্চল্যকর মোড়, অবশেষে গ্রেফতার কে?

দিল্লির চাঞ্চল্যকর সত্য নিকेतন (Satya Niketan) ভবন ধস কাণ্ডে অবশেষে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ৫ জন ছাত্রসহ মোট ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তথা কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক ঠিকেদার সানোজ কুমারকে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই মামলায় পিজি (PG) অপারেটর সুধাংশু লাভণীশকেও পুলিশ কব্জা করেছে। ধৃতদের ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের দুদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ যে চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলি হাতে পেয়েছে, তা রীতিমতো শিহরণ জাগানোর মতো। ধৃত ঠিকেদার সানোজ পুলিশকে জানিয়েছে যে, ঘটনার মাত্র ১০ দিন আগে মহেশ গুপ্তার নির্দেশে ওই ভবনে মেরামতি ও নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। প্রতিদিন ২,৮০০ টাকা মজুরিতে সে কাজ করছিল। বেসমেন্টটিকে গ্রাউন্ড ফ্লোরের সমান করার পরিকল্পনা ছিল এবং সেই উদ্দেশ্যেই সেখানে প্রায় তিনটি ট্রাক ভর্তি করে অতিরিক্ত জঞ্জাল ও মলবা ফেলা হয়েছিল।
পুলিশের তদন্তে আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, দোকান তৈরির জন্য একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্রাউন্ড ফ্লোরের একটি মুখ্য দেওয়ালও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। বেসমেন্টে অতিরিক্ত ওজনের ভারী মলবা থাকার পাশাপাশি দেওয়াল ফেলে দেওয়ায় পুরো ভবনের মূল কাঠামো বা স্ট্রাকচার মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আর তার জেরেই নিমেষের মধ্যে তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে আস্ত ওই বহুতলটি।
অন্যদিকে, যে পিজি संचालक সুধাংশু লাভণীশকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি প্রতি মাসে ১.০৫ লক্ষ টাকা ভাড়ায় এই ভবনের চারটি তলা চালাচ্ছিলেন। জীর্ণ দশার কথা পুরোপুরি জানা সত্ত্বেও সম্ভাব্য বিপদের ঝুঁকিকে কীভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখন চলছে জোরদার তদন্ত। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তি মহেশ গুপ্ত সহ বাকিদের ভূমিকা এবং নির্মাণকাজে সমস্ত আইনি বা সুরক্ষা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।