৯৫-এর ঘরে নেমে গেল ভারতীয় মুদ্রা! ডলারের শক্তিতে কাঁপছে বাজার, বড় বিপদের মুখে আমজনতা?

বিশ্ব বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান চরম সামরিক সংঘাতে বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় অর্থনীতি। বুধবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে ডলারের তুলনায় টাকার দামে ব্যাপক পতন দেখা গেছে। এদিন মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা (INR) ৩৪ পয়সা দুর্বল হয়ে ৯৫.০৮-এ এসে বন্ধ হয়েছে। এমনকি ব্যবসার এক পর্যায়ে টাকার পতন ঘটে সর্বকালীন নিম্নস্তর ৯৫.২২ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল।
টাকার এই হঠাৎ পতনের মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুট অয়েল বা কাঁচা তেলের দাম হু হু করে বেড়ে ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলের গণ্ডি টপকে যাওয়া। আমেরিকা ও ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহের চেইনে বড়ো রকমের বিঘ্ন ঘটায় অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় বহু সপ্তাহের রেকর্ড ভেঙে উপরে উঠেছে। এর ফলে ভারতের আমদানি খরচ বা ইমপোর্ট বিল বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের বাণিজ্য ঘাটতিকে আরও প্রশস্ত করছে।
শেয়ার বাজারেও বড় ধস: শুধু মুদ্রাবাজারই নয়, এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ার বাজারেও। একদিনের ট্রেডিংয়ে সেনসেক্স ৮১৩ পয়েন্ট বা প্রায় ৮১৩.৩৫ অঙ্ক কমে ৭৪,৭৬৪-এর ঘরে নেমে এসেছে এবং নিফটি সূচকও ২০৩ পয়েন্টের বেশি পিছিয়ে ২৩,৪৩০-এর নিচে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FIIs) তরফ থেকে লাগাতার পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতাও এই পতনে হাওয়া জুগিয়েছে।
আমজনতার ওপর এর প্রভাব কী হবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিকৃত এই অতিরিক্ত মহার্ঘতার জেরে দেশে খুব শীঘ্রই খুচরা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতি ফের মাথাচাড়া দিতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ আরও বাড়বে এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI)-এর আসন্ন নীতি নির্ধারণেও সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বড় ধাক্কা খাবে। সব মিলিয়ে, বিশ্ব রাজনীতির এই উত্তাপ সরাসরি সাধারণ মধ্যবিত্তের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।